করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৮ মাস বন্ধ বিভিন্ন স্কুল। কয়েকদিন আগেই হাইকোর্ট থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় রাজ্যের সমস্ত বেসরকারি স্কুলগুলিকে ২০ শতাংশ ফি কমাতে হবে। এর ফলে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন অভিভাবকেরা। কিন্তু হাইকোর্টের এই নির্দেশ মানতে রাজী হয়নি রাজ্যের বেশ কিছু বেসরকারি স্কুল। এর বিষয় নিয়ে রাজ্যের ১৯টি স্কুল সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ফি ২০ শতাংশ কমানোর কোনও আইনত ক্ষমতা নেই হাইকোর্টের। কিন্তু স্কুলগুলির সেই যুক্তি খারিজ করা হয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বেঞ্চ থেকে।
রাজ্য শুধুমাত্র একটি নির্দেশিকাই দিয়েছিল স্কুলের ফি কমানোর। এ ছাড়া আর কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এই জন্য হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ জরুরী ছিল। এর সঙ্গে স্কুলকে বলা হয়েছিল ৫ শতাংশ লাভ রাখার কথা। এই অতিমারি অবস্থায় স্কুলকে ২০ শতাংশ ফি কমাতেই হবে।
তবে অভিভাবকদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার জন্য সে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সে বিষয়ে হাইকোর্টের তরফ থেকে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এখনও পর্যন্ত। এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এদিন কপিল সিব্বল ও অভিষেক মনু সিংভি স্কুলের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন।
প্রসঙ্গত, স্কুলের ফি কম করার দাবীতে বারবার স্কুলের সামনে বিক্ষোভ করতে দেখাতে থাকেন অভিভাবকদের। তাদের অভিযোগ, স্কুল বন্ধ থাকলেও বেতনে কোনওরকম কাটছাঁট করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের থেকে কোনও আশানুরূপ ফল না মেলায় কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিভাবকেরা। এবার তাদের সেই আবেদনে সাড়া দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সময় স্কুলের ফি ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছিল আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ। এর পাশাপাশি মকুবও করা হয়েছিল নন-অ্যাকাডেমিক ফি’।
সেই সময় বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ফি ২০ শতাংশ কমাতে হবে রাজ্যের সমস্ত বেসরকারি স্কুলগুলিকে। তবে যেসব অভিভাবক ইতিমধ্যেই ফি জমা দিয়ে দিয়েছেন তাঁরা ফেরত পাবেন না। ভার্চুয়ালি পড়াশুনা হলেও বাসভাড়া, কম্পিউটার, ল্যাব ইত্যাদি নন-অ্যাকাডেমিক ফি নিচ্ছিল স্কুল্গুলি। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশের পর থেকে সেই সব ফি মকুব করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।





