বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের (assembly election) আর মাত্র বাকি কয় মাস। করোনাকালে এই বছরের প্রথম বিধানসভা নির্বাচন শুরু হয়েছে বিহারে। সেখানে প্রথম দফার মত দান ছিল আজ। বাংলায় আসন্ন যুদ্ধের আগে সবচেয়ে বড় ধোঁয়াশা যিনি তৈরি করছেন তিনি আর কেউ নন স্বয়ং বাংলার সেচ ও পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তার মন্তব্যে ফের জল্পনা শুরু বঙ্গ রাজনীতিতে।
তিনি যে কি করতে চান বা বলতে চান তা সাধারণের পক্ষে বোঝা বড়ই দুষ্কর। রাজনীতি ও কূটনীতিতে শব্দের এবং ভাষার গুরুত্ব অনেক বেশি। এবং তা বুঝতে একটু জটিল মন লাগে বৈকি! সম্প্রতি শুভেন্দুর এমনই এক বক্তব্য তাই আলোড়ন তুলেছে বাংলায়।
নিউ দিঘায় মহিলা কল্যাণ প্রতিষ্ঠান ভগিনী নিবেদিতার ১৫৩ তম জন্মতিথি উদযাপনের আয়োজন করেছিল। সেখানেই নিবেদিতার নতুন মূর্তি উন্মোচন করেন সেচ ও পরিবহণ মন্ত্রী। তার পর ওই মহিলা সংগঠনের সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের জন্য প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “কেনও আমি আপনাদের সকলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি? তার কারণ, কেউ একক শক্তিতে কোনও কাজ করতে পারে না। এটা স্বামী বিবেকানন্দ বলে গিয়েছেন। তিনি বলে গিয়েছেন, আমি আমি হল সর্বনাশের মূল। আমরা আমরা যারা করে, তারাই টিকে থাকে”।
আপাতদৃষ্টিতে তার এই বক্তব্য সত্যিই কোনও জটিলতা নেই। কিন্তু ওই যে বললাম রাজনীতিকদের ভাষা বোঝার জন্য একটু জটিল মনের দরকার হয়ই। আর অতি সাধারন কথার মধ্যে অনেক সময় গূঢ়ার্থ নিহিত থাকে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই শুভেন্দুর এই মন্তব্যের কাটাছেঁড়া করে ফেলেছেন। অনুগামী থেকে বিরোধী দলের অনেকেই মনে করছেন, তৃণমূলে একনায়কতন্ত্র সর্বশেষ কথা। দলে সবটাই একজনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। ২৯৪ টা আসনে তিনিই প্রার্থী। বাংলার মুখও নাকি তিনিই। সব তাঁর দয়াতেই হচ্ছে।
অথচ বাস্তব হল, যে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূলের উত্থান ঘটে তার নায়ক ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, রাজ্যে তৃণমূলের সরকার গঠিত হওয়ার পর সাংগঠনিক কাজেও দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। অথচ সেই তুলনায় গুরুত্ব ও মর্যাদা কখনই পাননি তিনি। বরং সম্প্রতি তৃণমূলের জেলা পর্যবেক্ষক তুলে দিয়ে আসলে শুভেন্দুকে চাপে রাখার চেষ্টা হয়েছে বলে অনেকে ব্যাখ্যা করেছেন।
এহেন পরিস্থিতিতে শুভেন্দুবাবুর সম্ভাব্য রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েও রাজ্য রাজনীতিতে এখন কৌতূহল বিস্তর। কারণ, অনেকের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর বাংলার রাজনীতিতে যদি কারও গ্রহণযোগ্যতা থাকে তা হলে তিনি হলেন শুভেন্দু। দুই মেদিনীপুর তথা জঙ্গলমহলই বা কেনও বাংলার সব জেলাতেই তাঁর কম বেশি অনুগামী রয়েছে। আর এহেন শুভেন্দু যখন বলেছেন, আমি আমি হল সর্বণাশের মূল, তখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে বিশেষ কাউকে উদ্দেশ্যে করেই কথাগুলো বলছেন তিনি। তবে অবশ্য সেচমন্ত্রী তার এই বক্তব্যের কোনও ব্যাখ্যা দেননি।





