মালদহ জেলার কালিয়াচকে বুধবার রাতের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের নজর কেড়েছে। একদিকে যেখানে স্থানীয় জুডিশিয়াল অফিসাররা হঠাৎই হেনস্তার শিকার হয়েছেন, অন্যদিকে পুরো পরিস্থিতি প্রশাসনের অবহেলার পরিচয় দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও বিচারিক মহল এই ঘটনার দিকে তাকিয়ে কৌতূহল ও উদ্বেগের মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করছেন। সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন, যা আরও গম্ভীর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনার বিবরণ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে উপস্থাপন করা হয়। জানা যায়, বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে কালিয়াচকে সাতজন বিচারক, যাদের মধ্যে তিনজন মহিলা, দুষ্কৃতীদের দ্বারা ঘেরাও করা হয়। রাত বারোটার পরে তারা মুক্ত হন, তবে বাড়ি যাওয়ার পথে তাদের গাড়িতে লাঠি ও পাথরের আক্রমণ হয়। এই পরিস্থিতি প্রশাসনের দিকে তীব্র বিরক্তি সৃষ্টি করেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে তোলেন।
সুপ্রিম কোর্ট দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন। প্রধান বিচারপতি জানান, হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি নিজে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করতে বাধ্য হন, কারণ স্থানীয় জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে পৌঁছাননি। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, এই ঘটনায় প্রশাসনের আরও নজরদারির প্রয়োজন ছিল। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, কমিশনের উপর আস্থা রেখে তারা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করবে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সবরকম পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিনের মামলার সময় রাজ্যের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং গোপাল শঙ্করনারায়ণ। কমিশনের পক্ষে ছিলেন ডিএস নাইডু। পরিস্থিতির বিস্তারিত বর্ণনা দেন কমিশনের আইনজীবী এবং প্রশ্ন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার মেহেতা। সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য স্পষ্ট, এই ঘটনা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার উদাহরণ। যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তাদের শোকজ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, কেন ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও বিচারকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলো না।
আরও পড়ুনঃ দলীয় রাজনীতির শিকার শিল্পী? তৃণমূল শাসিত বাংলায় ‘থিয়েটার না পাওয়ার’ অভিযোগে বি*স্ফোরক হেমা মালিনী! সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের তোপে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, বিজেপি সাংসদ বলেই কি বাধা, প্রশ্নের মুখে তৃণমূল?
প্রধান বিচারপতি বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির চিঠি দেখে আমরা অত্যন্ত হতাশ। এই ঘটনা জুডিশিয়াল অফিসারদের উপর ব্যাপক ভয়ের প্রভাব ফেলবে।” আদালতের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশ, সমস্ত কর্মকর্তাকে সতর্ক থাকতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি পুনরায় না ঘটাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে CBI বা NIA তদন্তের প্রয়োজনীয়তাও যাচাই করা হবে, যাতে ঘটনাটি যথাযথভাবে তদন্তের আওতায় আসে এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হয়।





