গত ১৯শে ডিসেম্বর গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক সভা করছেন তিনি। প্রত্যেক সভাতেই শাসকদলের দুর্নীতির কথা প্রকাশ্যে আনছেন শুভেন্দু। আগামী ১৯শে জানুয়ারি পুরুলিয়ায় জনসভা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার আগে পুরুলিয়ায় নিজের শক্তি পরীক্ষা করতে উদ্যত শুভেন্দু।
আজ ছিল পুরুলিয়ায় শুভেন্দুর রোড শো। এদিন একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে শুভেন্দু জানান প্রশাসনকে ব্যবহার করে বাংলায় সন্ত্রাস চলছে। মিথ্যে মামলা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবী, গত ভোটে মানুষ পদ্মফুলে ভোট দিয়েছে, আগামীকালেও দেবে। মানুষ এখানকার বিধায়ককেদুরে সরিয়ে রেখেছে। ঠিকঠাক নির্বাচন বিধি চালু হলে বিধায়ক হয়ত আর প্রচারে বেরোতে পারবেন না বলে দাবী করেন শুভেন্দু।
এদিন কাশীপুরের ন’পাড়া এলাকা থেকে শুরু হয় শুভেন্দুর রোড শো। তবে রোড শোয়ের আগেই শাসকদলকে তোপ দেগে তিনি বলেন যে পুলিশকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এরপর সরাসরি নিজের প্রাক্তন দলকে শানিয়ে শুভেন্দুর দাবী তৃণমূল মধ্যরাতে গণনায় কারচুপি করেছে। কীভাবে তারা পঞ্চায়েতের ক্ষমতা দখল করেছে, তা তাঁর খুব ভালো জানা।
এদিন প্রায় ৩ কিলোমিটার ব্যাপী পথযাত্রা ছিল শুভেন্দুর। হাজার হাজার মানুষ হেঁটেছেন এই পথযাত্রায়। পথযাত্রার শেষে একটি সভা ছিল তাঁর। কিন্তু হঠাৎই তাতে বাঁধে গণ্ডগোল। সভাস্থলে একটি গাড়ি ঢুকে পড়ায় গাড়িতে ভাঙচুর চালায় সভাস্থলে উপস্থিত জনতা। কিন্তু এই গাড়ি কার বা কোথা থেকে এল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সভা থেকে হুংকার শানিয়ে শুভেন্দুর স্পষ্ট বক্তব্য রঘুনাথপুরের আইসিকে সিবিআই ডেকেছে। গাড়ি ঢুকে যাওয়ার প্রসঙ্গে শুভেন্দুর জবাব, তাঁর এই সভা দেখে শাসকদল ভয় পেয়েছে, তাই গাড়ি ঢুকিয়ে সব ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছে। এদিনের সভা থেকে শুভেন্দুর দাবী, তিনি চান যে বাংলা ও কেন্দ্রে একই সরকার থাকুক, তবেই বেকারদের কর্মসংস্থান হবে। এখন শেষবেলায় এসে প্রধানমন্ত্রী কৃষি সম্মান নিধি চালু করা নিয়েও শাসকদলকে দাগেন শুভেন্দু। এও বলেন যে নির্বাচনের পর রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারতও চালু হবে। তাঁর দাবী, বাংলাকে মোদীজির হাতে তুলে দিতে হবে, তবেই সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে। ১৮ই জানুয়ারি পুরুলিয়ায় মমতার সভা নিয়েও তাঁকে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী।





