“এখনই প্রাক্তন এমএলএ লেটারহেড ছাপিয়ে রাখুন, আপনাকে হারাবই”, মমতাকে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর

গতকালই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে দিয়ে নিজের মাস্টারস্ট্রোকটি দিয়েছে। তেখালির মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তিনিই নন্দীগ্রামে প্রার্থী হবেন। এরপর পড়ে জানান যে, পারলে ভবানীপুরের প্রার্থী হিসেবেও তিনিই দাঁড়াবেন। তাঁর এই কথাতেই শুভেন্দু অধিকারী বলেন যে মমতাকে এক জায়গায় দাঁড়াতে হবে, দু’জায়গায় দাঁড়ালে হবে না।

নন্দীগ্রামের প্রার্থী হওয়ার কথা বলে যে তৃণমূল নেত্রী পরোক্ষভাবে শুভেন্দুকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, তা বেশ স্পষ্ট। মমতার ঘোষণার পরই শুভেন্দু গতকাল রাসবিহারীর অ্যাভিনিউয়ের সভায় সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণও করেন শুভেন্দু। বলেন যে, নন্দীগ্রামে মমতাকে তিনি আধ লাখ ভোটে হারাবেন, আর তা না হলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।

শুভেন্দু আগেই বলেছিলেন যে হেঁড়িয়াতে গিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সভার জবাব দেবেন। এদিন তিনি ঠিক সেটাই করেছেন। এদিন হেঁড়িয়াতে জন সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন মমতাকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে শুভেন্দু বলেন, “মাননীয়াকে এক জায়গায় দাঁড়াতে হবে, দু জায়গায় দাঁড়ালে হবে না। এখন থেকেই প্রাক্তন এমএলএ লেটারহেড ছাপিয়ে রাখুন। হারাবই হারাব”।

গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করার পর আবদুল মান্নান ও সুজন চক্রবর্তীরা বলেন যে, তৃণমূল দলনেত্রী ভয় পেয়েছেন। তিনি ভবানীপুরকে আর নিরাপদ মনে করছেন না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক জায়গায় প্রার্থী হওয়ার কথা বলে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে চাপে ফেলতেই চাইলেন। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর থেকে ভিতে দাঁড়ালে, তাঁর চেনা জায়গায় তিনি জিতলেও জিততে পারেন। কিন্তু নন্দীগ্রাম মাননীয়া ততটা চেনেন না। তাই সেখানে লড়তে গেলে তাঁকে সময় দিতে হবে।

নন্দীগ্রামে ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট রয়েছে। তৃণমূলের অনেকেই আশা করছেন যে শুভেন্দু সংখ্যালঘু ভোট পাবেন না। কিন্তু সংখ্যালঘুদের মধ্যে শুভেন্দুর যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাদের উৎসবে-অনুষ্ঠানে, বিপদে-আপদে সবসময় তিনি তাদের পাশে থেকেছেন। ফলে সেই ভোটও শুভেন্দুর দিকেই আসতে পারে।

এদিন সভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন যে মাননীয়া তো শহিদদের নামও ভুল বলেছেন। এরপর নন্দীগ্রামে যে কবে শহিদ হয়েছিল, তা নিজেই গড়গড় করে বলে যান। সব মিলিয়ে ভোট বাংলায় নন্দীগ্রামের উত্তাপ বেশ বাড়ছে। এবার এই যুদ্ধে কার জয়লাভ হয়, এখন সেটাই দেখার।

আরও অন্যান্য খবর