পাশবিকতায় নজির গড়ল বাম শাসিত কেরল! ১৭ বছরের নাবালিকাকে ৩৮ জন মিলে একাধিকবার ধর্ষণ

পাশবিকতায় নজির গড়ল বাম শাসিত কেরল! ১৭ বছরের নাবালিকাকে ৩৮ জন মিলে একাধিকবার ধর্ষণ l যৌন হেনস্থার হাড় হিম করার মতো ঘটনা ঘটল বাম শাসিত কেরলে। সমীক্ষা বলে দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষ নাকি থাকে কেরলেই। আর এই রাজ্যেই অপরাধের বাড়বাড়ন্ত চোখে পড়ার মতো।

সম্প্রতি, নিজের ওপর হওয়া পাশবিক অত্যাচারের বর্ণনা দিয়ে কেরলের মলপ্পুরমের  ১৭ বছরের এক তরুণী অভিযোগ করেছে, শেষ কয়েক মাস ধরে ৩৮ জন পুরুষ নানা ভাবে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানী করেছে তাঁর।

নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে ৪৪ জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মামলা করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ মোট ৩২টি পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ৩টি ধর্ষণের ঘটনা।

পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই নির্যাতিতা তরুণী মল্লপুরম জেলার পান্ডিকড এলাকার বাসিন্দা। তরুণীর মা ২০১৫ সালে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করে পুলিশের কাছে। তারপর পুলিশ উদ্ধার করে তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দেয়। সেই সময়ে পকসো আইনে দু’টি মামলা রুজু করা হয়। ২০১৭ সালে একই রকম একটি অভিযোগ দায়ের হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।

প্রায় প্রতিটি মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ পকসো আইনে শুনানি চালাচ্ছে। তারপর গত ডিসেম্বর মাসের শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তরুণী তার বন্ধুর মোটর সাইকেলে বেরিয়েছিল, তারপর আর ফেরেননি। যেহেতু সে নাবালিকা, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাই তার বয়ান রেকর্ড করানো হয়।

প্রথমবারের বয়ানে সে উল্লেখ করে ১৫টি যৌন হেনস্থার ঘটনার কথা। একমাস পর ফের নতুন করে তার বয়ান রেকর্ড করা হয়, সেখানে সে বলে আরও ১২টি যৌন হেনস্থার কথা। যার মধ্যে রয়েছে একটি ধর্ষণের ঘটনাও। তরুণী জানিয়েছে, মা দিনমজুরি করতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেন, তখন সারাদিন একাই থাকতে হত তাকে। সেই সময় পাড়া, প্রতিবেশীরাই তাঁকে হেনস্থা করতেন।

এই বিষয়ে ইনচার্জ পুলিশ ইনস্পেকটর মহম্মদ হানিফা বলেন, নির্ভয়া সেন্টারে কাউন্সিলিংয়ের সময় নাবালিকা সব কথা জানায়। তিনি বলেন, বাচ্চাটি চাইল্ড কেয়ার সেন্টার থেকে ছুটি পাওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পলক্কড় থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়।

পলক্কড় থেকে তাঁকে উদ্ধার করে নির্ভয়া কেন্দ্রে পাঠানো হয়। নির্ভয়া কেন্দ্রে কাউন্সিলিংয়ের সময় সে আধিকারিকদের সামনে তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার বিবরণ দেয়। হানিফা বলেন, পুলিশ তার অভিযোগের ভিত্তিতে ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। বাকি আরও ২০ জনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

RELATED Articles