আগামী ২৪ আগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজের তরফে। আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবী উঠেছে। তিনি পদত্যাগ না করতে নবান্ন অভিযান করা হবে বলে জানানো হয় ছাত্র সমাজের তরফে। আগামী মঙ্গলবার রয়েছে সেই অভিযান। তবে সেই অভিযান ব্যর্থ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে রাজ্য পুলিশ। নানান ফেক প্রোফাইল খুলে ফেক নিউজ ছড়িয়ে নাকি এই অভিযান ব্যর্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
নবান্ন অভিযান নিয়ে রাজ্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালতের তরফে এই মামলায় কোনও হস্তক্ষেপ করা হয়নি। শান্তিপূর্ণ মিছিল হতেই পারে বলে জানায় হাইকোর্ট। এবার এই অভিযান বন্ধ করতে নাকি গ্যাঁটের টাকা খরচ করে সিভিক ভলান্টিয়ারদের দিয়ে ফেসবুকে ফেক প্রোফাইল খুলিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে পুলিশ, এমনটাই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আজ, শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু জানান, “সমাজমাধ্যমে ২৭ তারিখের নবান্ন অভিযানের বার্তা ভাইরাল হতেই হাঁটু কেঁপে গেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। প্রথমে মহিলাদের স্বতঃস্ফূর্ত রাত দখলের কর্মসূচি অভূতপূর্ব সাড়া ফেলার পর এবং একপ্রকার জনরোষের মাধ্যমে পরিনত হওয়ার ফলে সরকার ও প্রশাসন এমনিতেই প্রচণ্ড চাপে রয়েছে। এবার ছাত্র সমাজের অরাজনৈতিক নবান্ন অভিযানের বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই ওনার স্নায়ুর চাপ হ্রাস করতে পুলিশ মাঠে নেমে পড়েছে। শুধুমাত্র পুলিশি ব্যবস্থা দিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের ও নাগরিক সমাজ কে রোখা যাবে না বুঝতে পেরে, মমতা পুলিশ একপ্রকার অনৈতিক পথ অবলম্বন করা আরম্ভ করেছে”।
শুভেন্দুর কথায়, “প্রত্যেক জেলার থানা গুলোতে ফেক ফেসবুক প্রোফাইল খোলানো হচ্ছে সিভিকদের দিয়ে। এই ফেক ফেসবুক প্রোফাইল গুলি সংগ্রহ করা হচ্ছে যাতে এই গুলোর মাধ্যমে ২৭ আগষ্ট এর নবান্ন ঘেরাও নিয়ে ভুল ভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো যায়। এর সাথেই এই ফেক ফেসবুক প্রোফাইল ব্যবহারকারীদের URL লিংক পাঠানো হচ্ছে কিছু আগে থেকেই সৃষ্টি করা ভুল পোস্ট ছড়ানোর জন্য যাতে নবান্ন অভিযান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো যায় ও ছাত্র ছাত্রীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া যায়। সিভিকদের ডকুমেন্ট দিয়ে সিম কার্ড তোলা হয়েছে। ওসি-রা টাকা দিয়েছেন রিচার্জ করার জন্য। তার পরে সব ফেক নাম দিয়ে প্রোফাইল খোলানো হচ্ছে”।
বিরোধী দলনেতা আরও জানান, “প্রতিটা জেলার সব জায়গাতেই ডিজি-র নির্দেশে পুরোদমে এই কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। পুরো পৃথিবীতে ‘টুলকিট’-এর ব্যবহারে আন্দোলন জোরদার করার নজির রয়েছে, যার মাধ্যমে আন্দোলনে যোগদানে ইচ্ছুকদের বার্তা দেওয়া যায়, কী ভাবে অনলাইন বা অফলাইনে তাঁরা আন্দোলনের অংশ হয়ে উঠতে পারেন। এই প্রথম আন্দোলন রুখতে সরকার ও প্রশাসন ‘টুলকিট’ ব্যবহার করে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ভেস্তে দিতে চাইছে”।
ছাত্রছাত্রীদের মনোবল বাড়াতে শুভেন্দু বলেন, “আমি ছাত্র ছাত্রীদের ও নাগরিক সমাজকে অনুরোধ করছি আপনারা কোনো ভুয়ো খবরে বিভ্রান্ত না হয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে চলুন ডাক্তার বোনটির জন্যে বিচার আদায়ের দাবি জানানোর জন্য। আমি মমতা পুলিশের ষড়যন্ত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করতে আপাতত পুর্ব মেদিনীপুর জেলায় পুলিশের দ্বারা খোলা ফেক ফেসবুক প্রোফাইলের তালিকা নমুনা হিসেবে সংযুক্ত করলাম। আমার কাছে প্রতিটি জেলার তালিকা রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনি জেনে রাখুন নিচের তলার পুলিশ প্রশাসনের একটা বড় অংশ আর আপনার পাশে নেই, আপনার জন বিরোধী কার্যকলাপে তাঁরাও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। তাদের বাড়িতেও কন্যা সন্তান রয়েছে, তাঁরাও বিচার চান”।





