আর জি কর কাণ্ডে (RG kar college and hospital) তিলোত্তমার রহস্য মৃত্যুতে গ্রেফতার হয়েছে সিভিক ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রায় (Sanjay Rai)। হেডফোনের সূত্র এবং সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। তারপর পুলিশের হাত থেকে তদন্তভার গিয়েছে সিবিআই এর হাতে, তবু দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো অবধি আর কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি সিবিআই (CBI)। আদালত বা থানায় যাতায়াতের পথে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়েও টুঁ শব্দ করেনি সঞ্জয়।
তবে সঞ্জয় সম্পর্কে যেটুকু জানা গেছে, তা জানার পর তদন্তকারী আধিকারিক থেকে শুরু করে প্রত্যেকেই হতবাক হয়ে যাচ্ছেন। জানা যাচ্ছে যে, এত বড় একটা কান্ড ঘটানোর পরেও সঞ্জয়ের চোখে মুখে একটা ডোন্ট কেয়ার ভাব রয়েছে। পুলিশ জেরায় তাকে প্রশ্ন করলে, সঞ্জয় বারবার বলেছেন আমাকে ফাঁসি দিন। কলকাতা পুলিশ থেকে সিবিআই এর হাতে তদন্তের ভার গেছে। তবে তদন্তকারী বদলালেও বদল হয়নি সঞ্জয়ের হাবভাব। অনুশোচনা তো অনেক দূরের কথা, এতোটুকু পাপ বোধও নেই তার।
একজন সিবিআই আধিকারিক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, তাদের কাছে আর জি করে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন অভিযুক্ত। ঐ আধিকারিক জানিয়েছেন যে, কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা তো দূর কি বাত তদন্তকারী অফিসারদের পর্যন্ত হতবাক করে দিয়ে ধৃত নাকি অবলীলায় বর্ণনা করে গিয়েছেন প্রত্যেকটা মুহূর্ত।
সঞ্জয় রায় সম্পর্কে জানা গেছে যে,পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত সঞ্জয় রায়ের অবাধ আনাগোনা ছিল যৌনপল্লীতে। ঐ আধিকারিক বলেছেন,অভিযুক্ত ব্যক্তি মূলত বিকৃত পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত। তার মানসিক বিকৃতিও রয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিক সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, নারী পুরুষের স্বাভাবিক মিলনের চেয়ে বিকৃত উপায়ের মিলনের দৃশ্যই পছন্দের ছিল সঞ্জয়ের, সেই ধরনের ভিডিওই দেখত সে। এমনকি কে ঘটনার দিন রাত্রেও সে যৌনপল্লীতে গিয়েছিল।
সিবিআই সংস্থা সংবাদ মাধ্যমিকে জানিয়েছে অভিযুক্তের মানসিক বিশ্লেষণ সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী অভিযুক্তের মানসিক বিকৃতি এবং পাশবিক প্রবৃত্তি রয়েছে আর সে গভীরভাবে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত।
সিবিআই কর্তার কথায়, লোকটার মধ্যে কোন অনুতাপ নেই। গোটা ঘটনার কথা প্রতিমুহূর্তের বর্ণনাসহ তিনি আমাদের জানিয়েছেন। কোথাও হোঁচট খান নি। ওর কোন অনুতাপ রয়েছে বলে মনে হয় না। ঐ আধিকারিক আরও বলেন যে, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে অভিযুক্তর উপস্থিত থাকার প্রমাণ মিললেও তার সাথে আর কেউ সেখানে ছিল কিনা সেটা জানা যায়নি। তিলোত্তমার গণধর্ষণ হয়েছিল কিনা সে বিষয়েও কোন সদুত্তর মেলেনি। অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনার রিপোর্ট নিয়েও কোনও উত্তর মেলেনি।






