পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে একাধিক অশান্তির ছবি উঠে আসছে। মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। আজ, বুধবার দিনভর ভাঙড়ে যেন মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজি হয়েছে। এমন আবহে এদিন বিকেলে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সামনে থেকেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সরকার ও কমিশনের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় তোপ দেগেছেন। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে যতদিন এই দুর্নীতিগ্রস্ত, সন্ত্রাসী শাসকদল ক্ষমতায় আছে, কোনওদিনই কোনও নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হবে না। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনও তার ব্যতিক্রম হবে না।
শুভেন্দু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে, রাজীব সিনহার সহায়তায় রাজ্যের ৫০টা ব্লকে লুঠ চলছে। মনোনয়ন জমা দিতে দেওয়া হচ্ছে না। গুন্ডাদের দিয়ে বিডিও অফিস ঘিরে রাখা হয়েছে। আর পুলিশ কৃতদাসের মতো তৃণমূলের দালালি করছে”।
হুঁশিয়ারির সুরে এদিন বিরোধী দলনেতা বলেন, যারা মনোনয়ন দিতে পারবেন না তাঁরা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে আসবেন। হাইকোর্ট বলেছিল, কমিশনকে অভিযোগ গ্রহণ করার জন্য পৃথক সেল খুলতে হবে। কিন্তু তা হয়নি। বিরোধী দলনেতার দাবী, ব্লকে বা মহকুমায় যারা মনোনয়ন দিতে পারবে না, তারা বৃহস্পতিবার থেকে কমিশনের বাইরে লম্বা লাইন দেবেন।
তাঁর সংযোজন, “ভয়মুক্ত পরিবেশে সুষ্ঠু ভাবে মনোনয়ন দাখিল করতে পারছেন না বিরোধী প্রার্থীরা। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড় – ১ এবং ২ নম্বর ব্লক ও ক্যানিং – ১ এবং ২ নম্বর ব্লক; বাঁকুড়া জেলার কোতুলপুর, পাত্রসায়র, ইন্দাস; বীরভূম জেলার লাভপুর ও নানুর; উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সন্দেশখালি – ১ এবং ২ নম্বর ব্লক ও মিনাখাঁ; হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুর ও বাগনান – ২ নম্বর ব্লক সহ রাজ্যের অন্যান্য ব্লকে বেশি অশান্তি করছে পুলিশ। বিডিও অফিস তথা মনোনয়ন কেন্দ্রগুলি সন্ত্রাসের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। তবে এবার আর ভোট লুটতে দেব না”।
এদিন শুভেন্দুর সঙ্গে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। তিনি ভিতরে গিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহার সঙ্গে দেখা করে সমস্যার কথা জানান। অভিযোগ করেন যে মনোনয়নে বাধা দেওয়া হচ্ছে বিরোধীদের। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে বলব, সমস্ত ভিডিওগ্রাফিগুলো ওঁর কাছে পাঠাতে। উনি কিছুই বুঝতে পারছেন না যে কতটা অশান্তি হচ্ছে। কোন জায়গা কতটা স্পর্শকাতর। কমিশনারকে বললাম সব। উনি আশ্বাস দিয়েচেন, যাঁরা মনোনয়ন দিতে পারেননি তাঁদের জন্য নাকি আগামিকাল নির্বিঘ্নে মনোনয়নের ব্যবস্থা করবেন। দেখা যাক”।





