পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই যেন রাজ্যে এক উত্তেজনা দানা বেঁধেছে। মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে একাধিক অশান্তির ছবি উঠে এসেছে। আজ, বুধবার দিনভর ভাঙড় ১ ব্লকে মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজি হয়েছে। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। কিন্তু এমন অশান্তির মধ্যে পুলিশের ভূমিকা কী?
বুধবার ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির এলাকায় আইএসএফের মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ বাঁধে তৃণমূলের সঙ্গে। একদল যুবক যারা নিজেদের তৃণমূল কর্মী বলে পরিচয় দেন, তারা লাঠিসোঁটা, বাঁশ হাতে নিয়ে জমায়েত করে বিডিও অফিসের সামনে। সেখানেই রাজনৈতিক খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয় গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, বেধড়ক মারধর করা হয় এক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিককে। হাঁসুয়া দিয়ে কোপানোর চেষ্টাও হয়।
কিন্তু এমন অশান্তির মধ্যে কোথাও দেখাই মিলল না কোনও পুলিশ কর্মীর। এক সাংবাদিক আক্রান্ত হওয়ার সময় এক পুলিশ কর্মীকে একবার দেখেছিলেন বটে, কিন্তু বাকিরা কোথায়? মনোনয়ন জমার ১ কিলোমিটারের মধ্যে যেখান ১৪৪ ধারা জারি করা, সেই জায়গায় খুঁজেই পাওয়া গেল না কোনও প্রশাসনিক আধিকারিককেই।
বিডিও অফিসের সামনে সেই সময় দেখা মিলল একগুচ্ছ পুলিশের, কেউ বা তখন ব্যস্ত মোবাইলে গেম খেলতে, কেউ বা আবার গাড়িতে বসে পা দোলাচ্ছেন, কেউ গাছের ছায়ায় বসে আরামে আড্ডায় মজেছেন। ভিতরে মনোনয়ন চলছে আর বাইরে এমন পুলিশের ‘আড্ডা’। এর কিছু দূরেই যে এমন অশান্তির ঘটনা ঘটে গেল, সেদিকে দেখা মিলল না কোনও পুলিশ কর্মীর।
বলে রাখি, গতকাল, মঙ্গলবারও মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে অশান্তি হয় ভাঙড়ে। তবে বুধবার তা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। আইএসএফ বিধায়কের এলাকা যেন এক ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছিল এদিন। এদিন পুলিশের এমন কীর্তি দেখে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, এমন অশান্তির মধ্যে পুলিশের ভূমিকা কী ছিল? বাংলার নির্বাচনে পুলিশের উপর কী নিরাপত্তার দায়িত্ব নেই? এই পুলিশ দিয়েই কী রাজ্য নির্বাচন কমিশন বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচন করাবে?





