তৃণমূলের উত্তরাধিকারী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যেকার লড়াই এবার আইনের দরবার পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিজেপিতে যোগ দিয়েই নাগাড়ে অভিষেককে আক্রমণ করছেন শুভেন্দু। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাক্ যুদ্ধে জড়িয়েছেন দুজনেই। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ।
প্রায় প্রত্যেক সভা থেকেই অভিষেককে নিশানায় রেখে তোলাবাজ ভাইপো’ স্লোগান তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সাংসদকে ‘গরুচোর’, ‘কয়লাচোর’ বলেও কটাক্ষ করছেন তিনি। নারদকাণ্ডে টাকা নেওয়ার ভিডিও-কে হাতিয়ার করে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে পাল্টা সুর চড়িয়েছেন অভিষেকও। ভরা জনসভায় বলেছেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে যদি দুর্নীতি বা তোলাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রকাশ্যেই ফাঁসির মঞ্চে মৃত্যুবরণ করবেন’।
আর এবার তাদের সেই লড়াই আইন জটে আটকেছে।মানহানির মামলা করার হুমকি দিয়ে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন আগেই। এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর পাঠানো চিঠির উত্তর দিলেন তৃণমূল ত্যাগী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। জবাবি চিঠিতে আগের বিভিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, ‘ভাইপো’ চিরকালই ‘অসহিষ্ণু’ ও ‘দুর্মুখ’ হিসেবে পরিচিত। স্রেফ আইনি চিঠিই নয়, প্রকাশ্য জনসভাতেও শুভেন্দুর ‘মুখ বন্ধ’ করতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। সেই মামলাটি এদিন খারিজ করে দেয় আদালত।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে এক জনসভায় অভিষেককে সরাসরি ‘তোলাবাজ ভাইপো’ বলে নিশানা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ওই মন্তব্যের জন্য শিশির পুত্রকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদের আইনজীবী। বলা হয়েছিল, চিঠি পাওয়ার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্তে ক্ষমা না চাইলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। সেই চিঠির এবার পাল্টা জবাব দিলেন শুভেন্দু। জবাবি চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মতো মণীষীদের অপমান করেছিলেন অভিষেক। কারণটা সম্ভবত শিক্ষার অভাব ও ভুয়ো ডিগ্রি। নিজেকে নেতা ভাবলেও অহিষ্ণুতার কারণে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে একজন মানুষকে পিটিয়ে মেরা ফেলাকেও সমর্থন করেছিলেন তিনি।’ শুভেন্দুর দাবি, অভিষেক নিজেকে বাচ্চা ছেলে ও অপরিণত ভাবছেন। যদিও আগের নোটিসে কোথাও তাঁকে বাচ্চা বলা হয়নি।
নিজের চিঠিতে অভিষেক নিজেকে ‘highly competent’ বলে দাবি করেছিলেন। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দলত্যাগের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দুর জবাব. ‘অভিষেক কতটা ‘highly competent’, তা বাংলার মানুষই বিবেচনা করবেন’। চিঠির একবারে শেষে সাংসদ হিসেবে ‘ভাইপো’-কে তাঁর দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ করেছেন, সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ৩৪ মিটিং-এ যোগ দেননি অভিষেক। তাঁর আইনজীবীর পাঠানো চিঠি যে ভ্রান্ত ও ত্রুটিপূর্ণ, সেকথাও নিজের চিঠিতে লিখেছেন শুভেন্দু।





“হিরণের বাড়িতে দু’টো বউ, সোহমের কিন্তু একটাই বউ…” দলীয় প্রার্থীর প্রশংসা করে, বিপক্ষ তারকা প্রার্থীকে খোঁচা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল বনাম বিজেপির সংঘাতে উত্তেজনা তুঙ্গে!