কেন্দ্রের প্রকল্পের নাম বদল করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা নিজের প্রকল্প বলে চালাচ্ছেন, এমন দাবী নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে নালিশ জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে তিনি আগেই চিঠি লিখেছিলেন আর এবার সরাসরি দেখা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের সঙ্গে।
গতকাল, মঙ্গলবার কলকাতার একটি নামী হোটেলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই মমতা সরকারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া কথা জানান নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক। টুইট করে শুভেন্দু জানান যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি প্রকল্পের নাম না বদলান, তাহলে এবার কেন্দ্র কড়া পদক্ষেপ করবে।
শুভেন্দুর দাবী করেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প হল ‘জল জীবন মিশন’। আর সেই প্রকল্পেরই নাম বদল করে ‘জল স্বপ্ন’ নাম দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, কেন্দ্রের টাকায় সেই প্রকল্প চললেও, এই প্রকল্পের পুরো কৃতিত্ব নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে প্রথমে মন্ত্রীকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন শুভেন্দু। আর এবার দেখা করেও অভিযোগ জানালেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদীর ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের লক্ষ্য হল ২০২৪ সালের মধ্যে দেশের প্রত্যেকটি ঘরে কলের জল পৌঁছে দেওয়া। এ রাজ্যেও সেই কাজ চলছে পুরোদমে। শুভেন্দুর কথায়, মন্ত্রী গজেন্দ্র সিংহ শেখাওয়াত তাঁকে জানিয়েছেন, “যদি রাজ্য সরকার জল স্বপ্ন প্রকল্পের নাম বদল না করে, তাহলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে”। শুধু তাই নয়, বাজেট অধিবেশনের শুরুতে বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণেও ‘জল স্বপ্ন’ প্রকল্পের উল্লেখ ছিল বলে মন্ত্রীকে জানিয়েছেন শুভেন্দু।
পুরভোটের ফলপ্রকাশের দিনই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে এই চিঠি লিখেছিলেন শুভেন্দু। এ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শেখাওয়াত তাঁকে ফোন করেন। এমন অভিযোগ পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ফোনে মন্ত্রী জানান যে এভাবে কেন্দ্রের অর্থ ব্যবহার করে তা রাজ্য সরকারের নামে প্রকল্প চালালে বরাদ্দ অর্থ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করবে কেন্দ্র।
তিনি এও জানান যে এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে কেন্দ্র। রাজ্য সরকারের সঙ্গে জল শক্তি মন্ত্রকের পদস্থ কর্তারা কথা বলবেন বলে আশ্বাস দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। শুভেন্দুর দাবী, এই প্রকল্পে রাজ্যের জন্য ৬ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। কিন্তু রাজ্যের দাবী, রাজ্য সরকারের তরফেই এই টাকা দেওয়া হয়েছে।





