যাকে লাথি মেরে সটান কচুবনে ফেলে দিয়েছিলেন, সেই জয়প্রকাশ মজুমদারই এখন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন শুনে রীতিমতো যেন আঁতকে উঠলেন তৃণমূল কর্মী তারিকুল ইসলাম।
২০১৯ সালের ২৫শে নভেম্বরের সেই স্মৃতি আজও রাজ্যবাসীর মনে গেঁথে রয়েছে। ২০১৯ সালে করিমপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। সেই সময় বিজেপির দাপুটে নেতা ছিলেন তিনি। এর মাঝে তফাত মাত্র আড়াই বছরের। আর এরই মধ্যে জয়প্রকাশ এখন দলবদল করে তৃণমূলে।
একথা যেন প্রথমে বিশ্বাসই করে উঠতে পারছিলেন যে তারিকুল। যাকে তিনি একসময় লাথি মেরে কচুবনে ফেলে দিয়েছিলেন তিনিই এখন তাঁর দলের এক উচ্চপদস্থ নেতা, তা মেনে নিতে যেন একটু বেগ পেতেই হল তারিকুলকে।
তারিকুল বিএ পাশ হলেও বরাবর রগচটা বলেই খ্যাত তিনি। বিজেপি নেতার তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ঘটনায় তিনি বলেন, “উনি এখন আমাদের দলে, তাই নাকি”! তবে সম্ভবত দলের কারণেই ব্যাপারটিকে বেশ ভালোই সামলে নিয়েছেন তিনি। জয়প্রকাশ মজুমদারের তৃণমূলে যোগদানের কথা শোনার পর তারিকুল ইসলাম বলেন, “তাঁর সঙ্গে কোনওদিন দেখা হলে তাঁকে অনুরোধ জানাব, যাতে সেই সব কথা আর মনে না রাখেন”।
উল্লেখ্য, জানুয়ারির শেষের দিক থেকেই দলের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছিলেন জয়প্রকাশ। ২৫শে জানুয়ারি তাঁকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে বিজেপি। এরপর রার আক্রমণের সুর আরও ধারালো হয়। বিজেপির রাজ্য কমিটি, শুভেন্দু অধিকারী, সকলেই ছিলেন তাঁর নিশানায়।
পুরভোটে বিজেপির ভরাডুবি নিয়েও দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন তিনি। জল্পনা চলছিলই যে তিনি হয়ত তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। অবশেষে সমস্ত জল্পনা সত্যি করে গতকাল, ৮ই মার্চ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই তিনি তৃণমূলে যোগ দেন।
তবে, তাৎপর্যপূর্ণভাবে জয়প্রকাশ মজুমদার দল বদলানোর আগের দিন অর্থাৎ সোমবার জয়প্রকাশ-সহ একাধিক বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক তথা হুগলীর সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। এরপরই ফের জল্পনা শুরু হয়েছে যে তাহলে লকেটও কী জয়প্রকাশের পথেই হাঁটবেন পরবর্তীতে?





