গত মঙ্গলবার মেদিনীপুরের সোনাচূড়ায় আয়োজিত হয় নন্দীগ্রামের জমিরক্ষা আন্দোলনের শহিদ নিশিকান্ত মণ্ডলের স্মরণসভা। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২১শে জুলাইয়ের তৃণমূলের শহিদ দিবসের পর গতকালই ফের প্রকাশ্যে দেখা গেল তাকে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফের একবার শীর্ষনেতৃত্বের দিকেই তোপ দাগলেন তিনি।
স্মরণসভায় দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রাম আন্দোলনে নিশিকান্তবাবুর অবদান স্মরণ করেন শুভেন্দু। মনে করিয়ে দেন ২০০৬ সালে তেখালির ভাঙা সেতু নিয়ে তাকে সোনাচূড়া হাইস্কুলের মাঠে প্রথম নিয়ে আসেন খোদ নিশিকান্তবাবুই। তখন তিনি কোনও সাংসদ ছিলেন না, ছিলেন দক্ষিন কাঁথির এক বিধায়ক। নিশিকান্তবাবুই তার হাত ধরে জমি আন্দোলনের বীজ বপন করেছিলেন। নিশিকান্ত মণ্ডল না থাকলে তারা সেই আন্দোলন জিততে পারতেন না।
এরপরই দলীয় নেতৃত্বের দিকে আঙ্গুল তুলে তিনি বার্তা দেন, “অনেকেই অতীত ভুলে যান। ইতিহাস যারা ভুলে গিয়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ কখনও উজ্জ্বল হতে পারে না। এটাই চিরন্তন সত্য”।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূলে রদবদলের পর শুভেন্দুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কানাঘুষো অনেক কিছুই শোনা যাচ্ছে। তিনিও একাধিক দলীয় অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলছেন। তাছাড়া, নন্দীগ্রামের পঞ্চায়েতস্তরের বিভিন্ন প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আমফানের ক্ষতিপূরণের দুর্নীতির নানান অভিযোগও উঠলেও শুভেন্দুকে আসতে দেখা যায়নি।
শুভেন্দুর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে অনেকদিন ধরেই জল্পনা চলছে। যদিও এ ব্যাপারে তিনি নিজে কখনও মুখ খোলেননি। ধীরে ধীরে তিনি তৃণমূলের থেকে দুরত্ব বাড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ। তাছাড়া, সম্প্রতি তার কিছু কর্মসূচীতে তৃণমূলের প্রতীক বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিও দেখা যায়নি। রাজনৈতিক দলের একাংশের মতে, ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় দলীয়নেত্রীর সঙ্গে ক্রমশ দুরত্ব বাড়ছে তার।





