‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে পুলিশকর্মীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডিএ’, নবান্ন অভিযানের আগে পুলিশের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে প্রতিশ্রুতি শুভেন্দুর

রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) আক্রমণ শানানোর কোনও সুযোগই তিনি ছাড়েন না। বারবার নানান ইস্যু নিয়ে রাজ্য সরকারকে  খোঁচা দেন তিনি। এবার হুগলীর পান্ডুয়ার (Pandua) এক দলীয় সভা থেকে ফের রাজ্য সরকারকে তোপ দাগলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এর পাশাপাশি তিনি এও প্রতিশ্রুতি দেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের ডিএ পাইয়ে দেবেন।

এদিনের সভা থেকে পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, “পুলিশ কর্মীদের বলব আপনারা ডিএ পাচ্ছেন না। একজন কনস্টেবল দশ হাজার টাকা কম পাচ্ছে। একজন এসআই কুড়ি হাজার। আমাদের সরকার এলে আরটিজিএস করে এনইএফটি করে ২৪ ঘণ্টায় ডিএ অ্যাকাউন্টে দিয়ে দেব। আর পুলিশকে বলব নবান্নে আমাদের আটকাবেন না। নবান্নের তিনটে দিক থেকে মিছিল যাবে। আপনাদের বন্ধু শুভেন্দু থকবে সাঁতরাগাছিতে। দেখা হবে”।

কয়লা পাচার কাণ্ডে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর শ্যালিকা মেনকা গম্ভীরকে তলব করেছে সিবিআই। সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “ভাইপো বলেছিলেন পাঁচ পয়সাও খান না। আসলে আপনার বৌ আর শ্যালিকা খায়।আপনি কয়লা, গরু পাচারের টাকা খান। সবেতো ভোর ছ’টা এখনও দুপুর হয়নি। আমরা সন্ধে হতে দেব না। দেখুন না ডিসেম্বরে কী হয়”।

শুভেন্দুর সংযোজন, “তৃণমূলের যাঁদের কাছে টাকা আছে তাঁরা লুকিয়ে রাখুন। অবশ্য লুকিয়ে রেখেও লাভ হবে না। ইডি যা জিনিস আমরা সব খুঁজে বের করব। একমাত্র গঙ্গার জলে ফেলে দিলে আপনারা বাঁচতে পারেন”।

দুয়ারে সরকার প্রসঙ্গে শুভেন্দুর খোঁচা, “দুয়ারে সরকার এখন খাটের তলায়”। এরপরই আত্মবিশ্বাসী হয়েই বিরোধী দলনেতা বলেন, “আমি যদি নন্দীগ্রামে যেতে পারি আপনারা পারবেন তো পঞ্চায়েতে যেতে? আমি এসে বিডিও অফিসে নমিনেশান করাব”।

এদিন সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে নন্দীগ্রামের বলেন, “সংখ্যালঘুদের বলব কি পেলেন? আনিস খান? বগটুই, ইসলামপু? আজকেও একজন বীরভূমে মারা গিয়েছেন। আর ভাইপো এদিকে উত্তরবঙ্গে গিয়ে লেকচার দিচ্ছেন”। তাঁর কথায়, “পাণ্ডুয়ায় ২০১৩ পর থেকে পঞ্চায়েত টাকা খাওয়া শুরু করেছে। তার আগে আমজাদ ভাই ছিলেন। এখন এরা পঞ্চায়েত দখল করে খাওয়া শুরু করেছে”। শুভেন্দু এও অভিযোগ করেন যে পান্ডুয়ার তৃণমূল বিধায়ক নিজের এলাকার দিকে নজরই দেন না।

তবে তৃণমূলের তরফে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এই বিষয়ে পান্ডুয়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “রত্না দে নাগ মাসের পঁচিশ দিন পান্ডুয়াতে থাকেন। শনিবারও তাঁর পাঁচটা কর্মসূচি ছিল না। আজ শুভেন্দু অধিকারী যা বলেছেন তাতে স্পস্ট রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছেন”।

RELATED Articles