‘কুকুরকে কামড়ানো কী আর মানুষের শোভা পায়’, জয়প্রকাশ-রাজীবদের দাবীকে ‘তোলামূলের সাংবাদিক প্রহসন’ বলে দাগলেন শুভেন্দু

একদিকে কোনও কিছু না শোনা, কোনও কিছু না বলা, কোনও কিছু না দেখা সেই তিন বাঁদরের ছবি আর অন্যদিকে সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘অধম ও উত্তম’ কবিতার কিছু যাতে লেখা, “কুকুরে কামড়ানো কি রে…”। ফেসবুকে এমনই একটি পোস্ট করে জয়প্রকাশ মজুমদার ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত তোপ দাগলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

জয়প্রকাশ ও রাজীব উভয়েই তৃণমূলের সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দুর নন্দীগ্রাম থেকে জেতা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তাঁর জয়ের পিছনে কারচুপি রয়েছে বলে দাবী তোলেন তারা। তাদের সেই দাবীকে ফুঁৎকারে উড়িয়ে তৃণমূলের এই সাংবাদিক বৈঠককে ‘তোলামূলের সাংবাদিক প্রহসন’ বলে তীর বিঁধলেন শুভেন্দু।

গতকাল, শনিবার তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জয়প্রকাশ মজুমদার। রাজীব এ দিন দাবী করেন, “ভোটের দিন শুভেন্দু ফোন করে বলেছিলেন, তিনি হেরে গিয়েছেন”।  এরপরও কীভাবে জিতলেন প্রশ্ন তোলেন রাজীব।

তাঁর এই দাবীকে সিলমোহর দিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে জয়প্রকাশ বলেন, “২ মে বিকেল ৫টা নাগাদ সাংবাদিক বৈঠকে মাননীয়ার জয়ের কথা জানাই। আমাদের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী পরাজিত হয়েছেন। পরে জানতে পারি ফল অন্য। শুভেন্দুকে ফোনে জয়ের কথা জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেন, অনেক কিছু করতে হয়েছে”। বিজেপি থেকে তৃণমূলে যাওয়া এই দুই নেতার মন্তব্যে বেশ বিতর্ক শুরু হয়।

প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট গণনার দিন নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে এক নাটকীয় ঘটনা ঘটে। প্রথমে সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা যায় যে নন্দীগ্রামে জিতেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এর কিছু সময় পরই গোটা ছবিটাই পাল্টে যায়। ঘোষণা করা হয় যে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী জিতেছেন, মমতা নন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেদিন থেকে নানানভাবে সরব হয়েছে তৃণমূল। ঘাসফুল শিবিরের দাবী নন্দীগ্রামে ভোট গণনায় কারচুপি করা হয়েছে। যদিও তা মানতে নারাজ রাজ্য বিজেপি। এই বিষয়টি এখনও আদালতে বিচারাধীন।

দল বদলের পরপর জয়প্রকাশের এই ধরনের মন্তব্যকে কটাক্ষ করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “সবে তো মাঠে নেমেছেন, একটু স্টেডি হোন। আগে পুরোপুরি তৃণমূলী হয়ে যান। কংগ্রেস থেকে বিজেপি হতে সময় লেগেছে। এবার বিজেপি থেকে তৃণমূল হতে তো একটু সময় লাগবে। আগে ধাতস্থ হোন, ওদের মতো করে সব ঠিকঠাক করে নিন। আগে ঘর গুছিয়ে নিন, তারপর উনি বলবেন”।

RELATED Articles