আজ ছিল বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম সভা। এতদিন যাঁর মুখে বিজেপি বিরোধিতার কথা শোনা গেছে এবার অনভ্যস্ত কানেই তৃণমূল বিরোধিতার কথা শোনা গেল।
এতদিন যাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতেন এবার তার বিরুদ্ধেই আক্রমণাত্মক বাণ ছুঁড়লেন শুভেন্দু। আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার বিকেলে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে দলীয় জনসভা থেকে নাম না করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।
সরাসরি প্রশ্ন তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দম’ নিয়ে। প্রকাশ্যে বললেন নন্দীগ্রাম না থাকলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ক্ষমতা তাঁর ছিল না। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস কোম্পানিকে বলবো, তার নেত্রীকে বলবো, নিজের দমে যদি মুখ্যমন্ত্রী হতেন তাহলে ২০০১ সালেই হয়ে যেতেন। নন্দীগ্রামের ওই শবদেহগুলোর ওপরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। আজ যে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল করেছেন সেই কংগ্রেসের হাত ধরতে হয়েছিল ২০১১-য়। আর বিজেপি নেতারা বলেছিলেন, তোমরা পারলে পদ্মফুলে দাও। নইলে তৃণমূলে দাও। কারণ এই অত্যাচারী কমিউনিস্ট রাজ খতম হওয়া দরকার।’
তৃণমূল সম্পর্কে শুভেন্দুর অভিযোগ, বালির গাড়ি রাস্তা ভাঙছে, পাথর, কয়লা, গরু বেচেছে। এবার জিতলে ওঁরা কিডনি বেচবে। আমায় বিধানসভার টিকিট দিতে হবে না। আমি ১৬ ঘন্টা খাটব। নীচে বসব। কিন্তু আমরা জিতব। সোনার বাংলা গড়ব।
আজকের সভায় জোশে ছিলেন শুভেন্দু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাজকর্মের তুমুল সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, ‘সব চাকরিগুলো তুলে দিয়েছে। ১৪ সাল থেকে SSC বন্ধ। টেটের কেলেঙ্কারি। গোটা বাংলায় আজকে ২ কোটি বেকার। সাড়ে ৯ বছর একেবারে পরে যমের দুয়ারে সরকার।’
রাজ্য সরকারের দুয়ারে সরকার প্রকল্পের নাম না করে শুভেন্দু বলেন, ‘একটা ফর্ম, ফিল আপ করে জমা দেবেন, জানুয়ারি পর্যন্ত এই নাটক চলবে। ফেব্রুয়ারি মাসে হাতে একটা কার্ড পাবেন। কিন্তু টাকা পাবেন না। তাই তো বলি আয়ুষ্মান ভারত পেতে হলে বিজেপি চাই। কৃষকদের ৬,০০০ টাকা করে পেতে হলে বিজেপি চাই। রাজ্যে শিল্প নেই, অন্ধকার। এই রাজ্যে পরিবর্তন দরকার।’
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, শুভেন্দু সঙ্গে মমতার দিদি-ভাইয়ের সম্পর্ক ছিল। কোনদিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কোনও রকমের কটু মন্তব্য শোনা যায়নি শুভেন্দুর মুখে। বারবারই নিশানা করতেন ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে তাঁর আজকের ভাষণের মূল লক্ষ্যে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটা কি বিজেপির স্ট্রাটেজি নাকি শুভেন্দুর ভেতরের ক্ষোভ?





“হিরণের বাড়িতে দু’টো বউ, সোহমের কিন্তু একটাই বউ…” দলীয় প্রার্থীর প্রশংসা করে, বিপক্ষ তারকা প্রার্থীকে খোঁচা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল বনাম বিজেপির সংঘাতে উত্তেজনা তুঙ্গে!