আগামী বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দের দিকটিও ক্রমশই প্রকট হচ্ছে। গত শনিবারই মেদিনীপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্’র সভাতে গেরুরা পতাকা হাতে তুলে নিয়ে পদ্ম শিবিরে অভিষেক হয়েছে শুভেন্দু অধিকারী। এরপর আরও কোন তৃণমূল নেতা মন্ত্রী বিজেপিতে যোগদান করবেন, এই নিয়ে রাজনৈতিক অন্দরে শুরু হয়েছে ঘোর জল্পনা।
জানা গিয়েছে, আজকের মুখ্যমন্ত্রীর নবান্নের বৈঠকে দেখা মেলেনি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ চার মন্ত্রীর। বাকী তিনজন হলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, গৌতম দেব ও চন্দ্রনাথ সিন্হা। এই চার নেতার বৈঠকে অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনেকেই মনে করছেন, এই চার নেতাও দলবদল করে পদ্মাসনেই বসবেন। তবে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
শুভেন্দুও দলছাড়ার আগে এই ধরণেরই কাজ করতেন। মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে অনুপস্থিতি, দলহীন কর্মসূচী গ্রহণ, এসবের মধ্যে দিয়েই তিনি দলের সঙ্গে নিজের দূরত্ব বাড়িয়েছিলেন। এবার সেই একই পথে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে এই চার মন্ত্রীকেও। যদিও তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা তাদের অনুপস্থিতির কারণ নিশ্চয় মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন।
বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় বেশ কিছুদিন ধরেই দলের বিরুদ্ধে বেসুরো মন্তব্য শোনা গিয়েছে। এমনকি, উত্তর কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন জায়গায় রাজীবের নামে পোস্টারও চোখে পড়ে, ঠিক যেমন পোস্টার দেখা গিয়েছিল শুভেন্দুর নামে। রাজীবের পোস্টারেও কোথাও তৃণমূলনেত্রী বা দলের কোনও উল্লেখ ছিল না। এই ঘটনাই তাঁর দলছাড়ার বিষয়কে আরও উস্কিয়ে দিয়েছিল। পরবর্তীকালে, পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তৃণমূল ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে রাজীব বৈঠকে বসলেও, তাতে কোনও আশানুরূপ ফল মেলেনি বলেই জানা গিয়েছিল। এবার তাঁর নবান্নের বৈঠকে গরহাজিরা, তাঁর দল ছাড়ার বিষয়ের জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিল।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, আগামী মাসেই ফের বঙ্গ সফরে আসছেন অমিত শাহ। জানা গিয়েছে, এবার তাঁর সভাস্থল হাওড়া। এদিনের সভাতে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বা অন্য কোনও তৃণমূল নেতা ফের একবার গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন কী না, এখন সেটাই দেখার।





