মীরজাফরের পাল্টা ‘মিনি পাকিস্তানওয়ালা মন্ত্রী’! জ্বালাময়ী বক্তৃতায় মেদিনীপুরের ‘ভূমি পুত্র’র নিশানায় ফিরহাদ

জমে ক্ষীর বাংলার রাজনীতি। একে অপরকে আক্রমণের জন্য নিত্য দিন নতুন ভাষা, নতুন টপিক বাংলায় ভোটের উত্তাপ বাড়াচ্ছে। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি নয়।
মুখ খুললেই পাল্টা কথা শোনার জন্য তৈরি থাকতে হবে। তৃণমূল বনাম বিজেপির লড়াইয়ে  অন্য দলগুলি কার্যত বাংলার রাজনীতির মানচিত্র থেকে মুছে যেতে বসেছে।
ঘাসফুল বনাম পদ্মফুল দুই ফুলের রাজনীতিতে কাঁটা কিছু কম নেই।
তৃণমূল বনাম বিজেপি, রাজ্য রাজনীতিতে এটাই এখন ট্রেন্ড। আর সেই ট্রেন্ডে এবার কাঁথির জনসভায় কার্যত আগুনে বক্তৃতা দিলেন সদ্য তৃণমূল ত্যাগী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। রণংদেহী মেজাজে একের পর এক বক্তব্যে বিঁধলেন দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়  এবং কলকাতা পুরসভার প্রশাসক এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে।
শুভেন্দু’র গড় কাঁথিতে তৃণমূলের সভায়  মেদিনীপুরের ভূমিপুত্রকে  ‘বিশ্বাসঘাতক’, ‘বেইমান’, ‘মিরজাফর’ বলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন রাজ্যের এই দুই মন্ত্রী।
আর এবার তৃণমূলের সভার পর ২৪ ঘণ্টারও কম ব্যবধানে বিজেপির সভা থেকে আক্রমণের জবাব দিলেন মেদিনীপুরের ‘যুবরাজ’।  ফিরহাদকে বললেন ‘মিনি পাকিস্তানওয়ালা মন্ত্রী’। প্রশ্ন তুললেন মন্ত্রীর যোগ্যতা নিয়েও।
গতকাল কাঁথি বাস স্ট্যান্ডের সভা থেকে ফিরহাদকে সরাসরি নিজের নিশানায় নিয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নিউ আলিপুর থেকে টিকিট পাননি বলে নেত্রীর বাড়িতে ঢিল মারতে গিয়েছিলেন, সে আমাকে বিশ্বাসঘাতক বলছেন। তাঁর এতো যোগ্যতা, কলকাতার মানুষ আমফানের পর দশ দিনের মধ্যেই তা বুঝে গিয়েছে। জল নেই। কারেন্ট নেই। গাছ কাটতে ওড়িষা থেকে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টকে নিয়ে এসে গাছ কাটতে হয়েছে। এতোই তাঁর যোগ্যতা।”
তবে শুধু ফিরহাদ নন, ‘বিশ্বাস ঘাতক’ বলা তৃণমূলের প্রবীণ নেতা সৌগত রায়‌কেও নিজের বক্তৃতায় গুছিয়ে কথা শুনিয়েছেন এই বিজেপি নেতা। ‌প্রবীণ সাংসদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু’র কটাক্ষ, “একজন অপরচুনিস্ট পলিটিসিয়ান। অধ্যাপক রায়ের গুরুত্ব ৯ বছর পর বুঝেছে তৃণমূল। শুভেন্দু অধিকারী চলে যাওয়াতে তৃণমূলের পায়ে কাঁটা ফুটেছে, তখন সৌগত রায়ের ডাক পড়েছে।”
আগের দিনই তৃণমূলের সভা থেকে ফিরহাদ শুভেন্দুকে নিশানা করেছিলেন শিশির অধিকারীর ছেলে বলে। প্রশ্ন তুলেছিলেন তাঁর রাজনৈতিক যোগ্যতা নিয়েও।
কালকের সভা থেকে জবাব দিলেন শুভেন্দু। পরিবারতন্ত্রের খোঁচার পাল্টা দিলেন। একদা তৃণমূলের যুবনেতা শুভেন্দুর মুখে এদিন ফিরহাদ সম্পর্কে বলতে শোনা যায়, “মাননীয় মিনি পাকিস্তানওয়ালা মন্ত্রী, আমি তো আপনার জামাইকে নিয়ে কিছু বলিনি। লাল চুল, কানে দুল, তার নাম যুবা তৃণমূল। আমি তার কথা বলিনি। আমি বলেছি কয়লা চোর, গরু পাচারকারী তোলাবাজ ভাইপো-র কথা।”

RELATED Articles