সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন-অত্যাচার অব্যাহত বাংলাদেশে। সম্প্রতি আবার ইসকনের সন্ন্যাসী তথা চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় প্রভুকে গ্রেফতারির ঘটনার প্রতিবাদে জ্বলছে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। সেই রেশ পড়েছে এপার বাংলাতেও। চিন্ময় প্রভুকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে বাংলাদেশীদের ভিসা বাতিলের হুঁশিয়ারি দেন এই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
চিন্ময় প্রভুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা জারি করে তাঁকে গ্রেফতার করেছে ওপার বাংলার পুলিশ। এর জেরে বাংলাদেশে যে উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে শঙ্কিত হয়ে ইসকনকেই নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটতে চলেছে বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকার। এর প্রতিবাদেই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এর আগেও বাংলাদেশের অনেক সরকারকে দেখেছি। তবে এই রকমের ভারত বিরোধী আচরণ, হিন্দুদের ওপর নির্যাতন আগের কোনও সরকারকে করতে দেখিনি”।
চিন্ময় প্রভুকে গ্রেফতারির প্রতিবাদ জানিয়ে আজ, বুধবার ভারতে থাকা বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনে যান বিজেপির ৮ প্রতিনিধি। ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। ডেপুটি হাই কমিশনারের কাছে তারা দাবী করেন, অবিলম্বে ভিসা বন্ধ হোক। শুভেন্দু বলেন, “উনি কোনও অন্যায় করেনি। মিথ্যে কেসে ফাঁসিয়েছে ইউনুসের তালিবান সরকার। তারই প্রতিবাদে বাংলাদেশ হাই কমিশনারের অফিসে দাবি জানিয়ে গেলাম। প্রযোজনে ১ দিন অপেক্ষা করে ভিসা দফতরে যাব। কেন্দ্রকে বলব, এরকমরা চলতে থাকলে বাংলাদেশের ভিসা বন্ধ করে দিন। বাকিটা আমরা সীমান্তে বুঝে নেব”।
সীমান্ত বাণিজ্য ছাড়াও ভারতে বাংলাদেশের মানুষ যাতায়াত করেন চিকিৎসা পরিষেবার জন্য। কলকাতার নানান সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে উন্নতমানের চিকিৎসার আশায় গোটা বছর ধরেই এ দেশে আসেন বাংলাদেশিরা। করোনার সময়ও সীমান্ত বন্ধের ফলে ভিসা দেওয়া হয়নি ঠিকই কিন্তু মেডিক্যাল ভিসা বন্ধ করা হয়নি। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পর সে দেশে যে হারে হিন্দুদের উপর অত্যাচার শুরু হয়েছে আর এবার চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারি সব মিলিয়েই এবার সেই ভিসা বন্ধ করার দাবী তুললেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “মেডিক্যাল ভিসাও বন্ধ করতে হবে। ওঁরা চিকিৎসা নিতে করাচি, লাহোর যান, এখানে আসবেন না”।
আরও পড়ুনঃ ‘আমিই চেয়ারম্যান…’, কালীঘাটে মমতার বৈঠকের পরই বীরভূমে বড় ঘোষণা অনুব্রতর
চিন্ময় প্রভুকে গ্রেফতারির প্রতিবাদে নানান কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। আগামীকাল, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টোয় বঙ্গীয় সনাতন হিন্দু সমাজ জমায়েতের আয়োজন করা হয়েছে। শুভেন্দু জানান, এটা কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। সকলকে এই সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এছাড়াও, আগামী সোমবার পেট্রাপোল সীমান্তে পণ্যবাহী যানচলাচলের পথ অবরোধ করার কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। তবে যাত্রীবাহী গাড়িগুলিতে কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই আশ্বস্ত করেছেন শুভেন্দু।





