বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই শাসকদলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরও একাধিক সভায় তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। এবারে তাত অন্যথা হল না। আজ, শনিবার মহিষাদলে একটি সভা ছিল শুভেন্দুর। আজকের এই সভাতে শুভেন্দু ছাড়াও ছিলেন বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। এদিনের সভা থেকে ফের একবার তৃণমূলের দুর্নীতি ও ‘তোলাবাজ ভাইপ’-এর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন শুভেন্দু।
তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে বিজেপির চুক্তি হয়েছে যে সব জায়গায় সাংস্কৃতিক চর্চার আগে লেখা থাকবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। রাজ্যের প্রতিটি স্কুলের সামনে লেখা থাকবে বাংলার গর্ব নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তিনি আরও বলেন যে তাঁর সঙ্গে বিজেপির আরও চুক্তি হয়েছে যে প্রতি বছর এই রাজ্যে স্কুল সার্ভিস ও কলেজ সার্ভিস পরীক্ষা হবে। তৃণমূলের প্রতি নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন যে, শুধু ভোট এলেই শাসকদলের রাজ্যের উন্নতির কথা মনে পড়ে।
এরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন যে, ‘ভাইপো’র পুলিশ তাঁর ফোন ট্যাপ করেছে, তাই তিনি কারোর ফোন তুলতে পারছেন না। তিনি এও বলেন যে প্রয়োজনে তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপ করতে। আদর্শ নির্বাচন বিধি চালু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। এরপরই কয়লা ও গরু পাচার কাণ্ডে নাম জড়িয়ে পরা বিনয় মিশ্রের কথা প্রসঙ্গে শুভেন্দুর দাবী, আসতে আসতে একটা একটা ধাপ এগোচ্ছে। এরপর ‘তোলাবাজ ভাইপো’র চৌকাঠে সিবিআই হানা দেবে।
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভুয়ো প্রশংসা করে তিনি বলেন যে মোদীজি লকডাউনে গরীবদের বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস দিয়েছেন। কারোর ধর্ম, জাত দেখে মোদী সরকার কাজ করেন না। এরপর তিনি আমফানের প্রসঙ্গ তুলে বলেন যে তৃণমূল নেতারা আমফানের টাকা চুরি করেছে। যাদের ঘরে গরু নেই, তারাও আমফানের পরে গরু মরে গিয়েছে বলে টাকা নিয়েছে। হুঁশিয়ারি শানিয়ে তিনি বলেন যে তাঁর কাছে সব হিসেব রয়েছে, ভোটের সময়ই তিনি সব প্রকাশ্যে আনবেন।
শুভেন্দুর কথায়, ভোটের আগে রাজ্য সরকার শুধু কয়েকটা ফর্ম দেবে, তারপর সব ঢপের চপ। প্রধানমন্ত্রীর আয়ুষ্মান যোজনা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চালু হলেও, এই রাজ্যে তা লাগু হতে দেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবী, দিল্লি ও কলকাতায় একই সরকার থাকুক, তবেই রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।





