রঙের উৎসব মানেই আনন্দ, আবির, হাসি আর শুভেচ্ছার আদানপ্রদান। কিন্তু কখনও কখনও উৎসবের মঞ্চই হয়ে ওঠে রাজনৈতিক বার্তার বাহক। দোল পূর্ণিমার সকালেও ঠিক এমনই এক ছবি দেখা গেল কলকাতার ভবানীপুরে। রঙের আবহের মাঝেই হঠাৎ চড়ল রাজনৈতিক পারদ, আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
মঙ্গলবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির রাজনৈতিক ঘাঁটি ভবানীপুরে হাজির হন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে দোলের রঙে অংশ নিলেও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল রাজনৈতিক সুর। জনতার উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “নাস্তিকতা নিপাত যাক, সেকুলারিজম নিপাত যাক। হিন্দুরা যাতে পশ্চিমবঙ্গে সুরক্ষিত থাকে, সেই প্রার্থনাই করব।” এরপর তাঁকে ‘গোরা গোরা গৌরাঙ্গ’ গান গাইতে এবং ‘হিন্দু-হিন্দু ভাই-ভাই’ স্লোগান তুলতেও দেখা যায়। উৎসবের মঞ্চে এমন সরাসরি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বার্তা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
শুধু দোলের দিনই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ভবানীপুরে শুভেন্দুর আনাগোনা বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে। এলাকায় একটি বিশেষ ‘ওয়ার রুম’ তৈরি করে নিয়মিত বৈঠক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি চালাচ্ছেন তিনি। এই পদক্ষেপকে অনেকেই আগাম নির্বাচনী প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন। মুখ্যমন্ত্রীর শক্ত ঘাঁটিতে বিরোধী শিবিরের এমন সক্রিয়তা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও ভবানীপুর থেকেই প্রার্থী হতে পারেন। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই শুভেন্দু অধিকারী সংগঠন মজবুত করার চেষ্টা করছেন বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও কিছুই হয়নি, তবু দোলের দিনের বার্তা অনেককেই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য লড়াইয়ের ইঙ্গিত হিসেবে ভাবাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : ঐতিহ্য ও মানবতার কথা, পাশে নবদ্বীপ-ইসকন উন্নয়নের দাবি—উৎসবের আবহেও কি রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর পোস্টে?
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে তিনি পরাজিত হলেও পরে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বহাল থাকেন। এবার যদি ভবানীপুরেই মুখোমুখি লড়াই হয়, তবে তা যে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে, তা বলাই যায়। দোলের রঙ মুছে গেলেও ভবানীপুরের রাজনৈতিক উত্তাপ আপাতত কমার লক্ষণ নেই।





