ভোটের আবহ যত ঘনাচ্ছে, ততই চড়ছে রাজনীতির পারদ। একদিকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের টানাপোড়েন, অন্যদিকে নাগরিকত্ব ও বাসিন্দা শংসাপত্র ঘিরে ফের উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। ঠিক এমন সময়ে সামনে এল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর এক বিস্ফোরক মন্তব্য। বিহারের এসআইআরের (SIR – Special Intensive Revision) ধাঁচে বাংলাতেও যদি সমীক্ষা হয়, তবে কী হবে? এই প্রশ্ন ঘিরেই তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য।
শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে এক কর্মসূচিতে শুভেন্দু বলেন, ‘‘বিহারে যদি ৫০ লাখ নাম বাদ পড়ে, তবে বাংলায় বাদ যাবে অন্তত ১ কোটি ২৫ লক্ষ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মুসলমানের নাম।’’ তাঁর অভিযোগ, গত ৫-৬ বছরে বহু বাংলাদেশি মুসলিম নারীকে বিয়ে করে এ দেশে আনা হয়েছে। কেউ ভিসা করে এসেছে, কেউ এসেছে বেআইনি পথে। অথচ প্রশাসনের চোখে তা অধরাই।
শুধু প্রবেশই নয়, সরকারি শংসাপত্র নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, “রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মুসলমানদের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। আজ থেকেই তা বন্ধ করতে বলব জ্ঞানেশ কুমারকে।” তাঁর আরও অভিযোগ, আইপ্যাকের সহায়তায় সীমান্তবর্তী ৮টি জেলায় ৭৫ হাজার বাংলাদেশি মুসলমানকে ৬ নম্বর ফর্ম দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আজকের দিন থেকে কেউ যদি এই সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন, তাঁদের কপালে দুঃখ আছে।”
বিহারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “বিহারে SIR-এর সময় ৪০৩ জন বিএলও-র বিরুদ্ধে FIR হয়েছে। ৫৩ জন গ্রেফতারও হয়েছেন।” বাংলাতেও যদি কেন্দ্রীয় নিয়মে এমন সমীক্ষা হয়, তবে বহু নাম বাদ পড়বে বলেই মত তাঁর। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শুভেন্দুর এই মন্তব্য আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।
আরও পড়ুনঃ TMC worker murder : “আমায় ওরাই মারল”—মৃত্যু*র আগে চিনিয়ে গেলেন হামলাকারীদের! মুর্শিদাবাদে ফের খুন তৃণমূল কর্মী!
২০২৬-এ বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই এই ধরনের ‘সিটিজেনশিপ ফোকাসড’ বার্তা দিয়ে ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে চাইছেন বিরোধী দলনেতা, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, “এত বাংলাদেশি এনে কিছুতেই আপনাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।” বাংলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে এই বক্তব্য কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময় বলবে। তবে শুভেন্দুর বক্তব্যে রাজনীতির উত্তাপ যে বাড়ল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।





