TMC worker murder : “আমায় ওরাই মারল”—মৃত্যু*র আগে চিনিয়ে গেলেন হামলাকারীদের! মুর্শিদাবাদে ফের খুন তৃণমূল কর্মী!

রাতের অন্ধকারে টোটো করে বাড়ি ফিরছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু আর ফেরা হল না তাঁর। আচমকা কয়েকজন চড়াও হয় তাঁর উপর, বেধড়ক মারধর করে চম্পট দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। এই ঘটনার পর থেকেই ফের উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক অঙ্গন। মৃত ব্যক্তি শাসকদলের বুথ সভাপতি বলেই দাবি ব্লক নেতৃত্বের।

জানা গিয়েছে, ২১ জুলাই সন্ধ্যায় রেজিনগরের উত্তর কলোনি এলাকায় টোটো করে বাড়ি ফিরছিলেন প্রতীত পাল। সেই সময় আচমকাই তাঁর পথ আটকায় স্থানীয় কয়েকজন দুষ্কৃতী। রাস্তার মাঝেই শুরু হয় ব্যাপক মারধর। মাথা ও দেহের একাধিক অংশে আঘাত করা হয় তাঁকে। হামলার পর অভিযুক্তরা এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রতীতকে নিয়ে যাওয়া হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেন, কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যেয় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রতীত পাল। তিনি তৃণমূলের রেজিনগর অঞ্চল কমিটির বুথ সভাপতি ছিলেন বলে জানিয়েছেন ব্লক সভাপতি মঞ্জুর শেখ। তাঁর দাবি, “প্রতীতবাবু বাড়ি ফেরার সময় পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ঘিরে ধরে আক্রমণ চালানো হয়। শাবল দিয়ে আঘাত করে ওরা পালিয়ে যায়।”

এই ঘটনায় রেজিনগর থানায় ছয়জনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই প্রতীত দুষ্কৃতীদের কয়েকজনকে সনাক্ত করেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

প্রতীতের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনাও ছড়িয়েছে এলাকায়। ব্লক নেতৃত্বের সাফ কথা, এই আক্রমণের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। তবে বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র পাল্টা বলেন, “এই জুলাই মাসেই ছ’জন তৃণমূল কর্মী মারা গিয়েছেন। রেজিনগরে আমাদের সংগঠন এখনও দুর্বল। আমরা কেন এদের মারতে যাব? বরং নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে মৃত্যু হচ্ছে, আর দোষ চাপানো হচ্ছে বিজেপির ঘাড়ে।”

আরও পড়ুনঃ Dilip Ghosh : ‘বদনাম করার ষড়যন্ত্র চলছে’, ভাইরাল ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও নিয়ে লালবাজারে অভিযোগ দিলীপ ঘোষের!

এর আগে গত সপ্তাহেই মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে এক তৃণমূল কর্মী খুন হয়েছিলেন। তার এক সপ্তাহের মধ্যেই রেজিনগরে ঘটল আরও এক রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যু। ফলে জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “এখন আর রাতের বেলায় কেউ বেরোতে ভয় পাচ্ছে। টোটো করে বাড়ি ফেরা মানেই যেন আতঙ্কের নামান্তর।” পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles