কলকাতার রাজনৈতিক মানচিত্রে ভবানীপুর বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্র নয়, বরং রাজ্য রাজনীতির অনেক বড় সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থেকেছে এই এলাকা। নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই এখানে বাড়তি নজর পড়ে সব দলেরই। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে এবার প্রস্তুতির ধরনেই যেন আলাদা ইঙ্গিত মিলছে।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভবানীপুরে সংগঠিত প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ওই কেন্দ্রেই একটি ‘ওয়ার রুম’ গড়ে তুলেছেন। দলীয় সূত্রের খবর, এই কেন্দ্র থেকেই গোটা বিধানসভা এলাকার ভোট পরিচালনার কৌশল ঠিক হবে। কলকাতা পুরসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের ৮/১বি চক্রবেড়িয়া রোড (দক্ষিণ)-এর একটি বাড়ির নীচতলায় তৈরি হয়েছে এই অফিস।
ভবানীপুর বিধানসভা গঠিত হয়েছে কলকাতা পুরসভার ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ ও ৮২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে এই কেন্দ্রের একাধিক ওয়ার্ডে বিজেপি ভাল ফল করেছে বলে দাবি পদ্মশিবিরের। সেই নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী তথাগত রায় অল্প ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন তৃণমূলের সুব্রত বক্সী-র বিরুদ্ধে। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু, যদিও পরে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে সাংবিধানিক শর্ত পূরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিজেপি নেতৃত্বের অনুমান, আসন্ন নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেই লড়তে পারেন। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই আগেভাগে ঘুঁটি সাজানো শুরু হয়েছে। দলীয় এক নেতা দাবি করেছেন, অতীত নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্দিষ্ট কয়েকটি ওয়ার্ডে ভোটের ব্যবধানই জয়ের নির্ধারক হয়েছে। বিশেষ করে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে সংখ্যালঘু ভোট বড় ফ্যাক্টর ছিল বলে তাঁদের মত। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধনের পর কিছু পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করছেন তাঁরা।
অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব এই প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি বাবলু সিংহের দাবি, সংগঠন ও বুথ ব্যবস্থাপনায় বিজেপি পিছিয়ে। তাঁর কথায়, ভবানীপুরের মানুষই শেষ কথা বলবেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘ওয়ার রুম’ ঘিরে যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—এবার ভবানীপুরে লড়াই হতে চলেছে কড়া এবং কৌশলনির্ভর।





