গতকাল রাতেই সংবাদ পাওয়া গিয়েছে যে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mullick) করোনা আক্রান্ত (Corona Positive)। তাঁর মৃদু উপসর্গ রয়েছে তবুও তিনি ঝুঁকি না নিয়ে এক বেসরকারি হাসপাতালে (Private Hospital) ভর্তি হয়েছেন। তাঁর আরোগ্য কামনা করছেন দলের কর্মী থেকে বিরোধীদলের মানুষজন সকলেই। কিন্তু ফের উঠলো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, সরকারি হাসপাতাল (Government Hospital) ছেড়ে ইএম বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতালে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mullick) ভর্তি হলেন কেন? তবে কি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাচ্ছেন তার দলের রথী-মহারথীরাই? যুক্তিসংগত প্রশ্ন তুললেন বিজেপি রাজ্য যুব মোর্চার সহ-সভাপতি তরুণ জ্যোতি তিওয়ারি (TarunJyoti Tewari)।
তরুণ জ্যোতি তিওয়ারির (TarunJyoti Tewari) বক্তব্য, “দমকল মন্ত্রীর মতই রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করলেন না। কেন? রাজ্যের মন্ত্রীদের রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল গুলোর উপর ভরসা নেই আর রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন যে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা নাকি বিশ্বসেরা।”
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথার ওপর বিশ্বাস করতে পারছেন না তার দলের মানুষরাই। এমনটাই বক্তব্য তরুণজ্যোতির। এছাড়াও তিনি আরও বলেছেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথা তার পরিষদীয় মন্ত্রীরাই যখন বিশ্বাস করতে পারেন না তখন মানুষ কিভাবে বিশ্বাস করবে?”
যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বারংবার বলছেন যে করোনায় পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা গোটা দেশের তুলনায় অনেক ভালো। এখানকার সরকারি হাসপাতালগুলোতে সুপার স্পেশালিটি পরিষেবা দেওয়া হয়, সেখানে তাঁর দলের উল্লেখযোগ্য এক মন্ত্রী করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হলেন ইএম বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতালে। এমনকি দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু করোনা আক্রান্ত হয়ে এই বেসরকারি হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছিলেন। এই ব্যাপারে সাধারণ মানুষও বিভ্রান্ত। তারাও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন যে, “তবে কি দলের লোক দিদির কারচুপি ধরে ফেলেছে? তাই জীবন বাঁচাতে সরকারি হাসপাতালে না ভর্তি হয়ে সোজা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে মন্ত্রীদের?”
তরুণজ্যোতির আরও বক্তব্য, “যখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি কিন্তু সরকারি হাসপাতাল দিল্লির এইমসে ভর্তি হয়েছিলেন।”
তাই মুখ্যমন্ত্রী যতই বারংবার রাজ্য সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে আশ্বাস দিন না কেন, তাঁর নিজের দলের সদস্যরাই যে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে উপর আস্থা রাখছেন না তা দিনের আলোর মতো সুস্পষ্ট।





