‘রাজ্য পুলিশ আসলে তৃণমূলের চাকর, মেরুদণ্ডহীন প্রাণী’, অনুব্রতর গাড়িতে লালবাতি থাকা সত্ত্বেও পুলিশের নির্বিকার থাকা নিয়ে মন্তব্য বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারির

গত কয়েকদিনে যে তৃণমূলে নেতা বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন, তিনি হলেন অনুব্রত মণ্ডল। গত বুধবার সিবিআই হাজিরা এড়াতে অনুব্রত মণ্ডলের নাটকীয়ভাবে এসএসকেএমে ভর্তির ঘটনার সাক্ষী থেকেছে রাজ্যবাসী। এই নিয়ে বিরোধীদের তরফে কম কটাক্ষ করা হয়নি। আর এবার ফের একবার চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে বীরভূমের ‘কেষ্ট’।

বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই প্রশ্ন উঠে আসছে অনুব্রত মণ্ডলের গাড়িতে লালবাতির ব্যবহার নিয়ে। কোনও গাড়িতেই লালবাতি যেখানে নিষিদ্ধ, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী যেখানে লালবাতি গাড়ি ব্যবহার করেন না, সেখানে দাঁড়িয়ে অনুব্রত মণ্ডল কীভাবে একজন জেলা সভাপতি হয়ে লালবাতি দেওয়া গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন, তা নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন।

এবার এই বিষয় নিয়ে সরব হলেন আইনজীবী তথা বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারিও। শুধু তাই-ই নয়, এই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও পুলিশ প্রশাসনে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি।

তাঁর এই অভিযোগে স্পষ্ট লেখা যে ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে ঠিক কারা গাড়িতে লালবাতি ব্যবহার করতে পারবেন। তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে ২০১৭ সালের মে মাসে কেন্দ্র সরকার নতুন নির্দেশিকা পেশ করে সমস্ত গাড়িতেই লালবাতি ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। সেই নির্দেশ মেনেই রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা, দেশের প্রধান বিচারপতি সকলেই গাড়িতে লালবাতির ব্যবহার বন্ধ করে দেন।

তরুণজ্যোতির প্রশ্ন, অনুব্রত যখন বীরভূম থেকে কলকাতা এলেন, সেই পথে একাধিক চেকপোস্ট ছিল, এমনকি কলকাতার রাস্তা দিয়ে এসএসকেএম যাওয়ার পথেও একাধিক ট্র্যাফিক সিগন্যাল ছিল, তাহলে কোনও পুলিশ কেন তাঁর গাড়ি আটকাল না?

এই বিষয়ে খবর ২৪৭-এর তরফে তরুণজ্যোতি তিওয়ারির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “পুলিশ আসলে ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ নয়, পুলিশ তৃণমূলের চাকর। অনুব্রত মণ্ডল বীরভূম থেকে কলকাতা এলেন, পুলিশ দেখল না। এসএসকেএমে গেলেন, তাও পুলিশ দেখল না। দেখল না নয়, আসলে দেখতে চায়নি। দেখতে যখন চায়নি চোখের সমস্যা হয়েছে। তাহলে দেখানোর দায়িত্ব আমাদের। আমি দেখাব”।

পুলিশ কী তাহলে তৃণমূল নেতাকে সমর্থন করেই কোনও পদক্ষেপ নেয়নি? এই বিষয়ে তাঁর জবাব, “পুলিশ ওঁকে সমর্থন করতে বাধ্য। নাহলে পুলিশের যদি মেরুদণ্ড থাকত, তাহলে অনুব্রত মণ্ডল বলেছিলেন যে পুলিশের গাড়িতে বোমা মারুন, তখনই গ্রেফতার করত, কিন্তু করতে পারে নি তো। পুলিশ পুরো চিংড়ি মাছ, মেরুদণ্ডহীন প্রাণী”। বিজেপি নেতা এও জানান যে পুলিশ-প্রশাসন ও সরকারে অভিযোগ জানানোর পরও যদি কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে পরবর্তীতে তিনি এই বিষয় নিয়ে আদালতের দ্বারস্থও হবেন।

RELATED Articles