সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। এর আগে বেশ উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শাসক দল ও বিরোধী পক্ষ, দু’জনেই নিজের মতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলা জয়ের জন্য। একদল চেষ্টা চালাচ্ছে নিজের গদি টিকিয়ে রাখার জন্য ও অন্য দল নতুন করে বাংলায় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য। আগামী নির্বাচনে বাংলার সংস্কৃতি ও মনীষী-বিপ্লবীদেরই প্রধান হাতিয়ার করেছে দুই দল। এই নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
শনিবার ২৩শে জানুয়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে আয়োজিত হয় একটি অনুষ্ঠান। এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার জন্য মঞ্চে উঠতে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে নানান স্লোগান ভেসে আসতে থাকে। এর মধ্যে একটি স্লোগান ছিল ‘জয় শ্রী রাম’। এই স্লোগানেই নাকি মুখ্যমন্ত্রী অপমানিত বোধ করেছেন। আর এই কারণেই তিনি কোনও বক্তব্য পেশ না করেই ‘জয় হিন্দ’ ও ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি উচ্চারণ করে মঞ্চ ত্যাগ করেন।
এই ঘটনারই বিরোধিতা করেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য যুব মোর্চার সহ-সভাপতি ও কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। একটি ফেসবুক পোস্ট করে তিনি লেখেন, “জয় শ্রী রাম কোনও রাজনৈতিক স্লোগান নয়, কিন্তু ‘জয় বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান। ভারত সরকারের একটি অনুষ্ঠানে মঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান কেন বললেন?” তরুণজ্যোতি প্রশ্ন রাখেন তাহলে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ বানাতে চাইছেন? এই বিষয় নিয়ে আরও কিছু মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা।
বলে রাখি, ‘জয় বাংলা’ শব্দটি প্রথম সংগৃহীত হয় কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা থেকে। পরবর্তীকালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এই স্লোগানটি যুদ্ধবাণী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শেখ মুজিবুর রহমান যে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি। তিনি যখন স্বয়ং দেশের স্বাধীনতার জানান দেন, তখন তিনি তাঁর বক্তব্যের শেষে উচ্চারণ করেছিলেন ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি।
শেখ মুজিবর রহমান ছাড়াও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারাও এই ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি উচ্চারণ করতেন। তবে এটি উচ্চারণ করা হত বাংলাকে জয় করার আহ্বান জানানোর জন্য। ২০২০ সালে ১০ই মার্চ বাংলাদেশ হাইকোর্ট এই ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিকে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান বলে ঘোষণা করে। এই সমস্ত তথ্য বিচার করেই তরুণজ্যোতি তিওয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এই কথা বলেন।





