এক দশকেরও বেশি কেটে গেলেও, বাংলার শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে এখনও ঘুরেফিরে উঠে আসে একটাই নাম—সিঙ্গুর। ২০০৮ সালের সেই ঘটনা যেন এখনও রাজ্যের শিল্প ইতিহাসের এক টার্নিং পয়েন্ট হয়ে রয়ে গেছে। কারখানা বন্ধ, আন্দোলন, রাজনৈতিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে সেই সময়কাল আজও আলোচনায় প্রাসঙ্গিক। আর ঠিক সেই স্মৃতিকে হাতিয়ার করেই ফের একবার শিল্প-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে উত্তাপ ছড়াল তৃণমূলের নেতাদের বক্তব্য।
সোমবার বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজা। সেই মঞ্চ থেকেই তিনি একপ্রকার আক্রমণ শানান পূর্বতন বাম শাসনের দিকেই। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সেসময়ের ট্রেড ইউনিয়নগুলির কথাও। তাঁর কথায়, ‘‘পরিবর্তনের আগে আমরা রাজ্যে কী দেখেছি সেটা সবাই জানে। তখন ট্রেড ইউনিয়নগুলি রীতিমতো জঙ্গিদের মতো আচরণ করত। একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, শিল্পপতিদের হেনস্থাও ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।’’
তবে বক্তৃতার মোড় ঘুরে যায় যখন শিল্পমন্ত্রী বলেন, “সেই অতীতকে পেছনে ফেলে এখন আমাদের এগোতে হবে।” শিল্পমহলে জল্পনা ফের বাড়িয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও টাটা কর্তার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ। আর এই ইঙ্গিতকেই স্পষ্ট করেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও দিনই টাটার বিরোধিতা করেননি। তাঁর বিরোধিতা ছিল সেই সময়কার সরকারের ভূমি অধিগ্রহণ নীতির বিরুদ্ধে।’’
কুণালের দাবি, “বাম সরকার দো-ফসলি জমি দিচ্ছিল শিল্পপতিদের হাতে। সেটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেনে নিতে পারেননি। তবে শিল্প নিয়ে তাঁর অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট—তিনি শিল্প চান।” এই বক্তব্য থেকেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এবার হয়তো টাটার সঙ্গে নতুন করে সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার।
আরও পড়ুনঃ পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা: ২২ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, জারি লাল সতর্কতা
কুণাল আরও বলেন, ‘‘২০০৫ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সিঙ্গাপুরে গিয়ে শিল্প নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন। আর আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিদেশে যান, তখন শিল্পপতিরা তাঁর প্রতি আস্থা রাখছেন।’’ এই কথার মধ্যে দিয়েই উঠে আসে এক নতুন বার্তা—রাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিবেশ ফিরছে, এবং তাতে টাটার মতো বৃহৎ সংস্থার ভূমিকা থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এখন শুধু দেখার, এই বার্তাকে বাস্তবে কতটা রূপ দিতে পারে বাংলা প্রশাসন।





