‘কোনও রাজনৈতিক আলোচনা করবেন না এখানে’, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আবহে চায়ের দোকানের পোস্টারকে ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে

পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছে রাজ্যে। শেষ হয়েছে মনোনয়ন পর্বও। এরই মধ্যে রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে উঠে এসেছে নানান অশান্তির ছবি। এই পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে এখন আলোচনা সর্বত্র। সে পাড়ার রক হোক বা চায়ের দোকান, সব জায়গাতেই এখন আলোচ্য বিষয় একটাই, পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর এমন সময় পূর্ব বর্ধমানের বড়শুল বাজারের এক চায়ের দোকানের এক পোস্টারকে ঘিরেও শুরু হয়েছে আলোচনা।

বড়শুল পুরনো বাসস্ট্যান্ডের কাছে রয়েছে এক চায়ের দোকান যা জেঠুর চায়ের দোকান নামেই খ্যাত। ব্লক অফিস চত্বরে এই জেঠুর চায়ের দোকান চেনেন না, এমন লোক কমই রয়েছে। প্রায় ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই চায়ের দোকান চালান দুর্জয় মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী ভারতী মণ্ডল। ভোর থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এই বৃদ্ধ দম্পতির দোকান সংগ্রাম।

আর চায়ের দোকান মানেই নানান বিষয়ে নানান আলোচনা। এই জেঠুর দোকানও ব্যতিক্রম নয়। এই দোকানে বসেই চলে রাজনৈতিক আলোচনাও। তৃণমূল, কংগ্রেস, বাম, বিজেপি কেউই বাদ পড়ে না এই আলোচনা থেকে। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে চলে মোদী-মমতাকে নিয়ে তর্ক-বিতর্কও। সেই কারণেই দোকানে রাজনৈতিক বিবাদ ঠেকাতে এক পোস্টার দিলেন দোকান মালিক। সেই পোস্টারে লেখা, “নির্বাচনের দিনক্ষণ চুড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। আপনাদের কাছে অনুরোধ করা হচ্ছে, দোকানে রাজনৈতিক আলোচনা করিবেন না”।

এই বিষয়ে ভারতী মণ্ডল বলেন, “গরীবের সংসার আমাদের। দোকানের আয় থেকে কোনও রকমে সংসার চলে। দোকানে রাজনৈতিক আলোচনা থেকে শান্তি বিঘ্নিত হোক, তা আমরা চাই না। তবে এই পোস্টারের জন্য জেঠুর চায়ের দোকানে খদ্দেরের আসা কমেনি”।

আরও পড়ুন- দারুণ স্কিম! সরকারি LIC-তে এবার বিনিয়োগ করুন ২৫৬ টাকা আর রিটার্ন পান ৫৪ লক্ষ টাকা  

এই পোস্টারের ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, “অনেক সময়ে চায়ের দোকানে রাজনৈতিক তরজা হয়। তাতে দোকানে ক্ষতি হতে পারে। তাই তিনি ঠিকই করেছেন”।

আবার এই প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের বক্তব্য, “যদিও ব্যাপারটা বেশ অন্যরকম। তবে এর থেকেই বোঝা যায় মানুষ কতটা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। চায়ের দোকানে মানুষ চা খাবে, আড্ডা দেবে। এটাই স্বাভাবিক। এই ধরনের আড্ডা থেকে মানুষের মন বোঝা যায়। চায়ের দোকানে চা খেতে খেতে কী আলোচনা হবে সেটাও দোকান মালিককে ঠিক করে দিতে হচ্ছে। এর থেকে বোঝা যায় এখানে কতটা আতঙ্কের পরিবেশ রয়েছে”।

RELATED Articles