এ এক অন্য শিক্ষক দিবস! পড়ুয়াদের পিতৃ-মাতৃ স্নেহে নিজেদের হাতে করে মিড ডে মিল খাওয়ালেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা

মা-বাবার পর যার না যাদের ভূমিকা আমাদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তারা হলেন আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকা। তাদের শিক্ষাতেই ভবিষ্যতের দিশা খুঁজে পাই আমরা। তারাই আমাদের সঠিক লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেন। শিক্ষক-শিক্ষিকারাও আমাদের একপ্রকার অভিভাবক বলা যায়।

গত মঙ্গলবার ছিল শিক্ষক দিবস। পড়ুয়ারা এই দিনটি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে নানানভাবে পালন করে থাকে। তবে এবারের শিক্ষক দিবসকে একটু অন্যরকমভাবে স্মরণীয় করে তুললেন খোদ এক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাই। পিতৃ-মাতৃ স্নেহে নিজেদের হাতে করে পড়ুয়াদের মিড ডে মিল খাওয়ালেন তারা। দিদিমনি-মাস্টারমশাইদের হাতে এমন স্নেহ পেয়ে খুব খুশি পড়ুয়ারাও।

কী হয়েছে ঘটনাটি?

এই ঘটনাটি ঘটেছে আজ, বৃহস্পতিবার আমতার সোনামুই সাবালয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানেই শিক্ষক দিবসকে সামনে রেখে পড়ুয়াদের নিজেদের হাতে খাবার খাইয়েছেন ওই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

এই ঘটনার প্রসঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে যে এই পরিকল্পনা আগের থেকেই করা ছিল। মাঝে বুধবার জন্মাষ্টমীর ছুটি ছিল। সেই কারণে বৃহস্পতিবার স্কুল খুলতেই পড়ুয়াদের জন্য চমক দিল স্কুল।

জানা গিয়েছে, এই স্কুলে মোট ১৩০ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। এদিন ১০৬ জন ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিল। তারা সকলেই মিড-ডে-মিল খেয়েছে। তবে একা হাতে নয়, তাদের খাইয়ে দিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারাই। পড়ুয়াদের খাওয়ানোর জন্য কেনা হয়েছিল ১৩০ টি চামচ। নতুন চামচ দিয়ে নিজেদের হাতে ধরে পড়ুয়াদের প্রত্যেককে খাইয়ে দিয়েছেন দিদিমণি-মাস্টারমশাইরা। পরে সেই চামচগুলি উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে পড়ুয়াদের।

কী জানাচ্ছে স্কুল?

প্রধান শিক্ষক থেকে শুরু করে সহ-শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা সকলেই এই উদ্যোগে সামিল হন। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরুণকুমার পাত্র এই বিষয়ে বলেন, “আমরা এবার শিক্ষক দিবসকে একটু অন্যভাবে পালন করতে চেয়েছি। শিক্ষকরা ও পড়ুয়াদের একজন অভিভাবক। তাই তাদের সঙ্গে একটা ভালোবাসা ও স্নেহের বন্ধন থাকে। সে কথা মাথায় রেখে আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা প্রত্যেকটি ছাত্রছাত্রীদের চামচে করে নিজে হাতে খাইয়ে দিয়েছি মা-বাবার স্নেহে। তারাও বেশ খুশি হয়েছে। আমরা ঠিক করেছি, প্রতি বছর এভাবেই দিনটিকে পালন করব। এছাড়া যেসব ছাত্রছাত্রীদের খেতে অসুবিধা হয়, আমরা তাদের খাইয়ে দিই। আগামী দিনেও দেব”। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এমন স্নেহ-ভালোবাসা পেয়ে বেজায় খুশি পড়ুয়ারাও।

RELATED Articles