বাংলা দিবস কবে পালন করা হবে, তা নিয়ে এখনও বিতর্ক অব্যাহত। এই বিতর্কের মাঝেই এবার আজ, বৃহস্পতিবার বাংলা দিবস নিয়ে বিধানসভায় প্রস্তাব আনা হয় রাজ্য সরকারের তরফে। এদিন এই নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, “রাজ্যপাল সই না করলেও কিচ্ছু আসে যায় না, ১লা বৈশাখই পালন হবে বাংলা দিবস”।
১লা বৈশাখকেই বাংলা দিবস হিসেবে কেন বাছলেন মমতা?
মমতা বলেন, “১৯৪৭ সালের ২০ জুন বাংলায় রাজ্যই প্রতিষ্ঠা হয়নি। কোনও মর্যাদাকর ঘটনা ঘটেনি। অনেক পুরনো রাজ্য বাংলা। ব্রিটিশরা যাওয়ার আগে দুটো ভাগে ভেঙে দিয়ে যায়। লক্ষ বাঙালি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। মূল পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হয় ১৫ আগস্ট। পরে আরও অংশ জুড়েছে। আমাদের কাছে অনেক পরামর্শ এসেছিল। ইমাম, রাজবংশী, তপশিলি, হিন্দি, উর্দুভাষী, মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান ক্লাব এসেছিল। অনেক পরামর্শ এসেছে। রাখির দিনের কথা বলেছেন কেউ কেউ। হিন্দু মহাসভাও এসেছিল। ৯৯% লোক বলেছে, পয়লা বৈশাখ দিনটিই পালিত হোক”।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবসের জন্য ২০ জুন দিনটিকে বেছে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কেন্দ্র। এরপরই বাংলার প্রতিষ্ঠা দিবস ঠিক করতে তৎপর হয় নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এতদিন বাংলার প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়নি কারণ এতদিন ২০ জুন কেউ পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করেনি। এখন জোর করে আমাদের ওপর জাতিদাঙ্গার একটা দিন চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সবকিছু চাপিয়ে দিলে সহ্য করব না। দেখি কার জোর বেশি”।
মমতার কথায়, “বাংলার ক্যালেন্ডারের প্রথম দিন ১ বৈশাখ। বাঙালি শুভ কাজের সূচনা করে এই দিন। সেই দিনটা আমরা বাংলা রাজ্যের প্রতিষ্ঠার দিবস করতে চাই। আর ‘বাংলার মাটি বাংলা জল’কে ‘রাজ্য সংগীত’ করতে চাই। একটা রাজনৈতিক দল আছে, তাঁরা আগেই বলে গেলেন যে তাঁরা রাজভবন যাবেন। যাতে সই না করেন। না করতে পারেন। কিন্তু জোর করে চাপিয়ে দেবেন না। কে সমর্থন করল, না করল কিছু যায় আসে না। আমাদের নির্দেশ থাকবে, ১ বৈশাখ আমরা রাজ্য দিবস পালন করব। আর ওই গানটিকে আমরা রাজ্য গান করব। বাংলার জয়গান গাও। মাটির জয়গান গাও”।
আজ, বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বক্তব্য রাখার পরই বিল পাশ বলে ঘোষণা করেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন ১৬৭-৬২ ভোটে বিলটি পাশ হয়ে যায়। একজন অনুপস্থিত ছিলেন। অর্থাৎ পয়লা বৈশাখ ‘বাংলা দিবস’ পালিত হবে। অন্যদিকে আবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, পয়লা বৈশাখ দিনটিতে ‘বাংলা দিবস’ পালনের প্রস্তাব যদি রাজ্য সরকার রাজ্যপালকে পাঠায়, তাহলে তিনি যাতে সেই বিলে সই না করেন, তার জন্য রাজ্যপালের কাছে বিরোধীরা আবেদন জানাবেন।





