সংসারে টানাপোড়েন! অভাব মেটাতে বাবার ব্যবসার হাল ধরল খুদে কিশোর, মাত্র ১৩ বছর বয়সেই ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ

সংসারে অভাবের তাড়নায় মাত্র ১৩ বছর বয়সেই ব্যবসায়ী হয়ে উঠল হাবড়ার বিশ্বজিৎ। শারীরিক গঠন ছোটোখাটো। দোকানের কাউন্টাররের উচ্চতায় পৌঁছতেও টুলের উপর দাঁড়াতে হয় তাকে। তবে এই বয়সেই বাবার ব্যবসার হাল ধরে ব্যবসায় লক্ষ্মীলাভ করিয়েছে এই খুদে কিশোর।

হাবড়া স্টেশনের ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মাঝে রয়েছে বিশ্বজিতদের দোকান, নাম ‘হরিচাঁদ মুখরোচক’। সেই দোকানেই চা থেকে শুরু করে সিঙ্গারা, মিষ্টি, নানান ধরণের রোল-সহ নানান মুখরোচক খাবার বিক্রি করে চলেছে বছর ১৩-এর এই কিশোর। খাবার বিক্রি থেকে শুরু করে টাকার হিসাব বুঝে নেওয়া, সবটাই হচ্ছে একার হাতে। ছোটো এই খুদের এমন কর্মদক্ষতা দেখে প্রশংসা করেছেন নেটিজেনরা।

ব্যবসার পাশাপাশি পড়াশোনাও কিন্তু বজায় রেখে দিয়েছে সে। এবছর সপ্তম থেকে অষ্টম শ্রেণিতে উঠেছে বিশ্বজিৎ। পরিবারে বাবা ছাড়াও রয়েছে মা ও ভাই। মা অসুস্থ, তাই সংসারের হাল ফেরাতে বাবার এই ব্যবসায় হাত পাকিয়েছে বিশ্বজিৎ। বছর দুই আগে লকডাউনের সময় সংসারের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়লে বাবাকে সাহায্য করতে ব্যবসায় যোগ দেয় বিশ্বজিৎ।

লকডাউনের সময় স্কুল বন্ধ থাকায় সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানেই সময় কাটত বিশ্বজিতের। তবে এখন স্কুল খুলেছে তাই অতটা সময় সে দিতে পারে না ঠিকই, তবে এই দু’বছরেই পাকা ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছে সে। বিশ্বজিত জানায়, “এখন এই ব্যবসা চালাতে কোনও অসুবিধা হয় না। আগে লোক বেশি হলে কিছুটা ঘাবড়ে যেতাম। এখন সবটাই জলের মত পরিষ্কার”। সিঙারা থেকে শুরু করে ভেজিটেবল চপ, স্প্রিং রোল, পনির রোল, বাটার রোল, চাইনিজ সিঙারা, ভেজ পকোড়া, পাপড়ি চাট- সবকিছুর দামই এখন বিশ্বজিতের ঠোঁটস্থ।

এমন ছেলে পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন সঞ্জয়বাবুও। তিনি বলেন, “ছেলে আসার পর ব্যবসায় উন্নতি হয়। দোকানে ছেলে বসায় বর্তমানে দোকানের আয় অনেকটাই বেড়েছে”। ব্যবসায় খানিক উন্নতি হওয়ায় এখন দোকানে দু’জন কর্মচারীও রেখেছেন সঞ্জয়বাবু।

দোকানে আসা ক্রেতারাও বিশ্বজিতের এমন নিষ্ঠা দেখে মুগ্ধ। তবে এর নেতিবাচক দিক রয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকেই। অনেকের মতেই, বিশ্বজিৎ তার বাবার ব্যবসার হাল ধরলেও, এতে তার পড়াশোনার ক্ষতি হতে পারে। পড়াশোনা বজায় রাখা উচিত অবশ্যই। তবে নিজের স্কুল, পড়াশোনা, খেলাধুলা সব দিকটা সামলেই কিন্তু দিব্যি ব্যবসাও চালাচ্ছে বিশ্বজিৎ। এটা যে কোনও কিশোর-কিশোরীদের কাছে অনুপ্রেরণা যে হতেই পারে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

তবে বিশ্বজিতের এখন থেকেই এমন কাজ করার ফলে উঠে এসেছে শিশুশ্রমের দিকে প্রশ্নও। এত ছোটো বয়সে শৈশবকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে সে। এতে প্রশাসন কেন কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না? এই বিষয়ে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার শিশু সুরক্ষা দফতরের এক আধিকারিকের মত, “এমন কোনও অভিযোগ পেলে নিশ্চয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

RELATED Articles