গ্রীষ্মের দাপট আরও বাড়তে শুরু করেছে। মার্চের শেষ এবং এপ্রিলের শুরুতেই তাপমাত্রা লাগাতার বেড়ে চলেছে, যার ফলে নাজেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের। শহরজুড়ে এখন একটাই চিত্র— রাস্তায় বেরোলে শরীর থেকে চুঁইয়ে ঘাম পড়ছে, ঠান্ডা পানীয়র চাহিদা বেড়েছে বহুগুণ। দিনের বেলা ফ্যান কিংবা কুলারের বাতাসও যেন স্বস্তি দিচ্ছে না, রাতের ঘুমও ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সকাল থেকেই রোদের দাপট এতটাই বেশি যে দুপুরের পর বাইরে বেরোনো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বৃষ্টির আশা? আবহাওয়া দফতরের কী পূর্বাভাস?
অনেকেই অপেক্ষা করে রয়েছেন এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টির জন্য। তবে আবহাওয়া দফতর এখনই সে সম্ভাবনা দেখছে না। বরং, তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। কলকাতার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতেও প্রচণ্ড গরম পড়ছে। তবে স্বস্তির কথা একটাই, এখনো পর্যন্ত তাপপ্রবাহের কোনও সরাসরি সতর্কতা জারি করা হয়নি। যদিও বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় কিছুটা শুষ্ক গরম অনুভূত হচ্ছে, তবুও প্রচণ্ড রোদ এবং তীব্র উত্তাপ জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
বৃষ্টির সম্ভাবনাও কম
বৃষ্টি হওয়ার জন্য মূলত প্রয়োজন বাতাসে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প। তবে আবহবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে সেই জলীয় বাষ্পের জোগান খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণত, যখন বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে, তখন সেই জলীয় বাষ্প উপরের ঠান্ডা স্তরে পৌঁছে গিয়ে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি করে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। বরং, পশ্চিম দিক থেকে গরম ও শুষ্ক বাতাস প্রবেশ করছে, যা ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা আরও কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে, গরমের দাপট আরও কিছুদিন চলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কোথায় কত তাপমাত্রা?
আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৩৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে, এবং আগামী দিনে তা ৩৭ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। দমদমে তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৩৭ ডিগ্রি ছুঁয়ে ফেলেছে। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে চলেছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রির আশেপাশে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও মালদহেও ৩৭ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রা পৌঁছতে পারে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুনঃ Shukradev Gochar 2025 : শুক্রের প্রবেশে ধন-সম্পদ লাভ! কিন্তু কোন রাশি যাবে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে?
তাপপ্রবাহ না থাকলেও সতর্কতা জরুরি
যদিও তাপপ্রবাহের সরাসরি সতর্কতা জারি হয়নি, তবুও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরম থেকে বাঁচতে অবশ্যই কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। দুপুর ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে রোদে বেরোনো এড়িয়ে চলতে হবে। প্রচুর জল পান করা প্রয়োজন, বিশেষ করে যারা বাইরে কাজ করেন তাদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতির পোশাক পরা, রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করা এবং শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য বেশি করে তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। যদিও আবহাওয়া বদলের কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই, তবে আগামী দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হলে হয়তো কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।





