চলতি বছরের মার্চ মাসটা বেশ ভালোই নরমে-গরমে কেটেছে বলা যায়। মাঝেমধ্যেই বৃষ্টি বেশ স্বস্তি দিয়েছে বঙ্গবাসীকে। তবে এপ্রিল থেকেই চড়চড়িয়ে ইনিংস নিতে শুরু করে দিয়েছে গরম। তা অবশ্য ইতিমধ্যেই ভালোই টের পেয়ে গিয়েছে রাজ্যবাসী।
বাইরে বেরোলেই যেন গলদঘর্ম অবস্থা। চাঁদিফাটানো রোদের জেরে বেলার দিকে বাইরে যাওয়াই যেন এখন এক ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে। এদিকে আবার আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আজ, শনিবার থেকেই চড়তে শুরু করবে পারদ। প্রবল দাবদাহের পূর্বাভাস। জানা গিয়েছে, আগামী ৩-৪ দিনেই এক ধাক্কায় তাপমাত্রা বেড়ে যাবে ২-৪ ডিগ্রি।
গত কয়েকদিন ধরেই বেশ অস্বস্তি অনুভব করছে বঙ্গবাসী। গত দু’দিনে দমদম বা হাওড়ার তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রির একটু বেশি। তবে আজ, শনিবার তা ৩৮-এর ঘরে চলে যাবে বলে খবর। শনি ও রবিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১০ই এপ্রিল তাপমাত্রার পারদ পৌঁছতে পারে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ১১ এপ্রিল তা ছুঁয়ে যাবে ৪০ ডিগ্রির কাঁটা।
আবার ১২ এপ্রিলও তাপমাত্রা পৌঁছবে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে আর ১৩ এপ্রিল ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে তাপমাত্রা পৌঁছে যেতে পারে বলে জানাচ্ছেন আবহবিদরা। এটা তো হল কলকাতার তাপমাত্রার হিসাব। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তো তাপমাত্রা আরও বাড়বে। বাঁকুড়ার তাপমাত্রা পৌঁছে যেতে পারে ৪১ থেকে ৪২ ডিগ্রিতে।
হাওয়া অফিসের কথায়, ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা যে খুন অস্বাভাবিক ঘটনা, তেমনটা নয়। তবে ২০১৬ সালের পর এপ্রিলে এতটা গরম অনুভূত হয়নি। আবার গত প্রায় ২০ বছরের মধ্যে এই বছরের মার্চ ছিল সবচেয়ে ঠাণ্ডা। আর এপ্রিল পড়তেই আবহাওয়া কাঁটা ঘুরে গেল ১৮০ ডিগ্রি।
কিন্তু কেন এমনটা হচ্ছে? আবহবিদদের কথায়, যে পশ্চিমি ঝঞ্ঝাগুলো তৈরি হচ্ছে, সেগুলো খুব একটা শক্তিশালী নয়। এর জেরে জলীয় বাষ্পও কমে গিয়েছে। যেটুকু জলীয় বাষ্প আছে, তা-ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা গরম হাওয়া শুষে নিচ্ছে। আর সেই কারণেই এমন অবস্থা হচ্ছে বঙ্গের।





