নন্দীগ্রামে ফের তৃণমূল কর্মী খুন, বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ

এক মাসের মধ্যেই ফের তৃণমূল (TMC)কর্মী খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে নন্দীগ্রাম (Nandigram)। বৃহস্পতিবার সকালে মহাদেব বিষয়ী (৫২) নামে এক তৃণমূল কর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার হয় গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বৃন্দাবনচক এলাকায়। মৃতদেহটি একটি দোকানের সামনে পাওয়া যায়, এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পা দুটি ভাঙা ছিল এবং হাতে ক্ষত ছিল, যা একাধিক প্রশ্ন উত্থাপন করছে। তৃণমূল অভিযোগ করছে, এই খুনের পিছনে বিজেপির ভূমিকা রয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তৃণমূল সমর্থকরা ঘটনাস্থলে পুলিসের উপস্থিতিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি, মহাদেবকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খুনের কারণ তৃণমূলের কর্মী হওয়ায় তাকে টার্গেট করা হয়েছিল। স্থানীয় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা মহাদেবকে অপহরণ করেপিটিয়ে হত্যা করে এবং তারপর দোকানের মধ্যে তার মৃতদেহ ফেলে চলে যায়। এদিন সকালে ওই দোকান থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

তৃণমূলের অভিযোগ, গতকাল ২৫শে ডিসেম্বর নন্দীগ্রামে পিকনিকের আয়োজন করেছিল বিজেপি কর্মীরা। এই সময় মহাদেবকে অপহরণ করে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করে। তৃণমূল আরও দাবি করেছে যে, মহাদেবকে এর আগেও বিজেপি কর্মীরা খুনের হুমকি দিয়েছিল। তৃণমূলের দাবি, এই ধরনের ঘটনা শুভেন্দু অধিকারীর আগমন পরবর্তী সময়ে ঘটেছে, এবং তাদের মতে, এটি শুভেন্দু অধিকারীর উস্কানির ফলস্বরূপ ঘটেছে।

এদিকে, নন্দীগ্রাম এলাকার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এবং বিজেপি নেতা সাহেব দাস, ভোলানাথ কামিলা, অনুপ মাইতি সহ একাধিক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এই খুনের ঘটনায় অভিযোগ তোলা হয়েছে।তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, তারা এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়।

আরও পড়ুনঃ ভালোবাসাই কি যথেষ্ট? তিন সন্তানের মায়ের বিয়ে নিয়ে তুমুল বিতর্ক!

এটি দ্বিতীয় ঘটনা যেখানে নন্দীগ্রামে তৃণমূল কর্মী খুনের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। চলতি মাসের শুরুর দিকে, ধারাল অস্ত্র দিয়ে আরেকটি তৃণমূল কর্মী খুনের অভিযোগও ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। এই নতুন ঘটনার পর নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে চলমান রাজনৈতিক চাপানউতর এই ঘটনার ফলে আরও গভীর হতে পারে।

RELATED Articles