সিপিআইএমের (CPIM) নেতা কলতান দাশগুপ্তকে (Kalatan Dasgupta) গ্রেফতার করার ঘটনায় হাইকোর্টে প্রশ্নের মুখে পড়ল রাজ্য সরকার। হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলেছে, যে ফোনে কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিং এর ভিত্তিতে কলতানকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা পুলিশ পেল কোথা থেকে। ওই অডিও রেকর্ডিংয়ের (Audio Recording) উৎস কোথায়, কার মাধ্যমে তা পুলিশের কাছে পৌঁছল এই নিয়ে পুলিশের কাছে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। ।
কলতানের গ্রেফতারি মামলা নিয়ে বৃহস্পতিবার শুনানি হয় হাইকোর্টে। বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ কাছে প্রশ্ন করেন, যে পেনড্রাইভ পুলিশের কাছে এসে পৌঁছয় এবং অডিও রেকর্ডিংটি যেখান থেকে এসেছে সেই সোর্সগুলোকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কী না। বিচারপতি কুনাল ঘোষের দিকে ইঙ্গিত করে পুলিশকে আরও জিজ্ঞেস করেন, পুলিশ কলতান এবং সঞ্জীব দাসকে গ্রেফতার করার আগেই সেই অডিও রেকর্ডিংয়ের বিষয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিভাবে সাংবাদিক বৈঠক করলেন।
পুলিশের হাতে যেমন ওই অডিও ক্লিপ এসে পৌঁছায় সেরকম ভাবেই সেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের (কুনাল ঘোষ) কাছেও পৌঁছায়। ওই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে কি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ এই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতি। আদালতে কলতানের আইনজীবী বলেন, “তর্কের খাতিরে এই কথোপকথন হয়েছিল বলে যদি ধরেও নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রেও কলতান ওই কাজ করার জন্য কাউকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে শোনা যায়নি”।
এর প্রত্যুত্তরে রাজ্য আদালতকে জানায়, “গত পাঁচ মাসে কলতান এবং সঞ্জীবের মধ্যে ফোনে ১৭১ বার কথা হয়েছে। ৬ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৩৪ বার কথা হয়। এই ঘটনায় কলতান ‘কৃষ্ণ’ আর সঞ্জীব ‘অর্জুনে’র ভূমিকা পালন করেছেন। মাথা ফাটানোর প্রশ্নের উত্তরেও কলতান না বলেন নি। সাহেব, বাপ্পাদা ও দাদুকে খুঁজে বের করতে কলতানকে করা জেরা প্রয়োজন”।
আরও পড়ুন: ‘বাংলাকে পরিকল্পিতভাবে ডোবাচ্ছে, ডিভিসি-র সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখব না…’, বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে হুঁশিয়ারি মমতার
এদিন কলতানের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “কলতান আর জি কর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তাই তাকে বদনাম করতে চক্রান্ত হয়েছে। সঞ্জীবের কাছে কিপ্যাড যুক্ত ফোন রয়েছে, যাতে কথোপকথন রেকর্ড করা সম্ভব নয়। অন্য কেউ যদি কথোপকথন রেকর্ড করে থাকেন, সেক্ষেত্রে তদন্ত প্রয়োজন”। আপাতত এই মামলায় রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত।





