ভিক্ষা করে হয় দিন গুজরান। সেই অন্ধ ভিক্ষুকের ঘরেও চুরি করতে ছাড়ল না চোর। অন্ধ দুই মানুষের সেহ সম্বল জমানো দশ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে গেল চোর। শুধু তাই নয়, যা দিয়ে খানিক উপার্জন করেন দুই অন্ধ ভিক্ষুক, তাদের সেই ‘মুল্যবান সম্পদ’ খঞ্জনিটাও নিয়ে গেল চুরি করে। এবার দিন গুজরান কীভাবে হবে, তা ভেবেই হাপিত্যেশ করছেন দুই অন্ধ ভাই-বোন।
ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত রানিনগর এলাকায়। সেখানকার বাসিন্দা নারায়ণ দেবনাথ ও মীনা দেবী। তারা দু’জনেই জন্ম থেকে অন্ধ। একসঙ্গেই থাকেন দুই ভাইবোন। ট্রেনে ট্রেনে ঘুরে খঞ্জনি বাজিয়ে যা দু-চার টাকা আয় হয়, তা দিয়েই কোনওভাবে দিন চলে তাদের। তাদের বাড়িতে চুরির ঘটনায় হতবাল এলাকাবাসীরাও।
জানা গিয়েছে, গত সোমবারও অন্যান্যদিনের মতোই ভিক্ষা করতে বেরিয়েছিলেন দুই ভাইবোন। সন্ধ্যেবেলা বাড়ি ফিরে বাড়ির গেটের তালা খুলতে গিয়ে অনুভব করেন যে তালা আগের থেকেই খোলা। মনে এক ভয় দানা বাঁধে।
এরপর ধীরে ধীরে ঘরের দিকে এগিয়ে গিয়ে ঘরের তালা খুলতে গিয়েও বুঝতে পারেন সেই একই কাণ্ড অর্থাৎ ঘরের তালাও খোলা। বুঝতে পারেন তাদের বাড়ি চুরি হয়েছে। প্রতিবেশীদের ডাক দেন তারা। প্রতিবেশীরা এসে দেখেন তাদের ঘর পুরো লণ্ডভণ্ড। চুরি হয়েছে টাকা আর খঞ্জনিও।
এক প্রতিবেশী জানান, “এরা সকালে ভিক্ষে করতে বেরিয়ে যায়। ফিরে এসে দেখে তালা ভাঙা। বাক্স ভাঙা। সব চুরি হয়ে গেছে। আমাদের এলাকায় এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। আমরা চাই পুলিশ আসুক। তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক”।
অন্ধ ভিক্ষুক নারায়ণ দেবনাথ বলেন, “আমরা দুই ভাইবোন মিলে ভিক্ষে করে করি। যা আয় করি তার থেকে কিছু কিছু করে জমিয়ে ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় করে বাড়িতেই রাখা ছিল। সেই টাকা চুরি হয়ে গেল। পরে টিনের বাক্স খুলে দেখলাম সেখানে রাখা ছিলো এক জোড়া খঞ্জনি। সেটাও চুরি হয়ে গিয়েছে। এমন ঘটনা আমার সঙ্গে হবে স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। পঞ্চায়েতকে জানিয়েছি। তিনি থানায় অভিযোগ জানাতে বলেন। আমি জানিয়েছি। পুলিশ বলল আমার বাড়ি আসবে। কিন্তু পুলিশ এখনও এলোনা। আমি চাই আমার খোয়া যাওয়া জিনিসপত্র পুলিশ উদ্ধার করে দিক”। এই ঘটনায় ডিএসপি হেডকোয়ার্টার সমীর পাল জানিয়েছেন যে এই ঘটনার তদন্ত হবে করে দেখা হবে।





