টেট পরীক্ষার দিনক্ষণ বদল নিয়ে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে। যেদিন রাজ্যে টেট পরীক্ষার দিন ধার্য করা হয়েছে, সেদিন রাজ্যে রয়েছে গীতাপাঠ। ফলে বেশ সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে প্রার্থীদের। এই নিয়ে রাজ্য সরকারকে তোপ দাগলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকারকে ‘হিন্দুবিরোধী সরকার’ বলে কটাক্ষ শানালেন তিনি।
আগামী ২৪ ডিসেম্বর রয়েছে রাজ্যে গীতাপাঠ। এই গীতা জয়ন্তী উপলক্ষে ব্রিগেডে তিন ঘণ্টার অনুষ্ঠান হবে। এই অনুষ্ঠানে গীতার প্রধান ৫টি অধ্যায় পাঠ করা হবে। অন্তত ১ লক্ষ সমবেত কণ্ঠে গীতাপাঠ হবে। ব্রিগেডে এই ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজন করেছে গেরুয়া পন্থী সংগঠন অখিল ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতি পরিষদ। আয়োজক সংগঠনের দাবী, মোট ৩৬০০ হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এই কর্মসূচিতে যোগ দেবে।
এদিন ব্রিগেডে উপস্থিত থাকার কথা পুরীর শংকরাচার্য নিশ্চলানন্দ সরস্বতী ও দ্বারকার শংকরাচার্য সদানন্দ সরস্বতীর। উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর এই গীতাপাঠের দিনই রাজ্যে ফেলা হয়েছে টেট পরীক্ষা। আগে ঘোষণা করা হয়েছিল যে টেট পরীক্ষা হবে ১০ ডিসেম্বর। কিন্তু পরে তা পাল্টে করে দেওয়া হয় ২৪শে ডিসেম্বর অর্থাৎ গীতাপাঠের দিন।
এই নিয়ে কটাক্ষ শুভেন্দুর
রাজ্যে গীতাপাঠের দিন কেন টেট পরীক্ষা ফেলা হল, তা নিয়ে রাজ্য সরকারকে একহাত নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “এই সরকার সনাতন সংস্কৃতির বিরোধী সরকার। এক বছর আগে থেকে ঘোষিত সন্ত-সমাজ দ্বারা আয়োজিত ব্রিগেডে লক্ষ-কণ্ঠে গীতাপাঠ। সেখানে প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রিত, তিনি আসার জন্য ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। জগৎগুরু শঙ্করাচার্যের আসা নিশ্চিত হয়েছে। সেখানে টেট পরীক্ষা দিয়ে প্রমাণ করেছে, এই সরকার তোষামোদের রাজনীতি করে”।
শুভেন্দুর কথায়, “পূর্বঘোষিত কর্মসূচির দিন ইচ্ছা করে পরীক্ষা রাখা হয়েছে। যাতে গীতা পড়তে লোক না যায়, গাড়ি ঘোড়া না পায়, সেই জন্য এটা করেছে”।
তাঁর খোঁচা, “এই সরকার সম্পূর্ণ হিন্দুবিরোধী। তোষণের রাজনীতি করে ভোটব্যাঙ্কের জন্য। সংখ্যালঘুদের উপকার চায় না। তাদের এগুলো দেখিয়ে দরদী সাজার চেষ্টা করে। ভোট পাওয়ার জন্য এসব করে। এটাই আসল কারণ। হিন্দু বিরোধী সরকার।
প্রসঙ্গত, হঠাৎ কেন টেট পরীক্ষার দিন বদল করা হল, তা নিয়ে পর্ষদের তরফে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।। তবে পর্ষদ সূত্রে খবর, প্রস্তুতির কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ার কারণেই এই এই দিন পাল্টানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও জানিয়েছেন যে এই এটা পুরোপুরিভাবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সিদ্ধান্ত।






