শহরের আকাশ মেঘলা, আবহাওয়ায় বদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। ফেব্রুয়ারির শেষেই পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে চলেছে। সঙ্গে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০-৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। শনিবার ও রবিবার কলকাতা-সহ আশপাশের জেলাগুলিতে এই দুর্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ঝড়বৃষ্টি সাময়িক হলেও তাপমাত্রায় বড়সড় ওঠানামা ঘটাতে পারে।
কলকাতায় ইতিমধ্যেই বৃহস্পতিবার বৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে তাপমাত্রা কমে গিয়েছিল প্রায় পাঁচ ডিগ্রি। তবে শনিবার থেকে আবার তা একটু বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য বেশি। তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী দুই দিনের মধ্যেই ফের পারদ নামতে শুরু করবে। এই অনিশ্চিত আবহাওয়া নিয়ে নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান এবং নদিয়ায় শনিবার ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝড়ো হাওয়া। অন্যদিকে, বাকি জেলাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।
উত্তরবঙ্গেও এই প্রভাব পড়তে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষত দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে তুষারপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ শনির অস্তে বিপদ নাকি আনন্দ?রইল ৪ রাশির জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা!
আবহাওয়া দফতরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই বৃষ্টির মূল কারণ দুটি ঘূর্ণাবর্ত—একটি হরিয়ানা এবং অপরটি নাগাল্যান্ডের উপর অবস্থান করছে। এছাড়া, ছত্তীসগঢ় পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অক্ষরেখা রয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমি ঝঞ্ঝা উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে পূর্ব ভারতের দিকে এগোচ্ছে, যার ফলে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে সপ্তাহের শুরুতেও আবহাওয়ার এই রূপ বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।





