তৃণমূলের আক্রমণে তিলোত্তমার বাবা-মা! তিলোত্তমার বাবা-মায়ের প্রতিক্রিয়া: ‘টাকা নয়, মেয়ে ফিরিয়ে দিন’

শিয়ালদহ আদালতের বিচারক অনির্বান দাসের রায়ের পর, তিলোত্তমার পরিবারকে ১৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সঞ্জয় রায়ের আমৃত্যু কারাবাসের সাজা ঘোষণা হওয়ার দিনই এই সিদ্ধান্ত নেন বিচারক। তবে তিলোত্তমার মা-বাবা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তাঁরা ক্ষতিপূরণ নিতে চান না। এর পরেই তৃণমূলের নেতারা সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করেন। কিছু নেতা তাদের ‘চক্রান্তকারীদের মুখপাত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, আবার কেউ তাঁদের পেছনে সিপিএমের হাত দেখতে চান।

মদন মিত্র এই বিষয়ে বলেন, “তারা ক্ষতিপূরণ চাইলে তা দিতে হবে, তবে প্রথমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করুন।” তিলোত্তমার বাবা পাল্টা উত্তরে জানান, “মেয়ে ফিরিয়ে দিন, টাকা নেব না।” তাঁর মতে, টাকা নেওয়ার প্রস্তাব তারা আগেই প্রত্যাখ্যান করেছেন, এবং এর পরেই তাঁদের বিরুদ্ধে নানা কথাবার্তা বলা হচ্ছে।

শিয়ালদহ আদালতের বিচারক অনির্বান দাস জানিয়েছেন যে, এই ক্ষতিপূরণ রাজ্যের দায়বদ্ধতা হিসেবে দেওয়া হচ্ছে এবং তা টাকা দিয়ে সমস্যার সমাধান নয়। কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, তিলোত্তমার মা-বাবা চক্রান্তকারীদের প্রভাবে বারবার নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছেন। তিলোত্তমার বাবা-মায়ের আচরণের প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন তারা এত সক্রিয়, আর কেন একের পর এক বিবৃতি দিচ্ছেন।

এদিকে, তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তাপস পাল কুণাল ঘোষের মন্তব্যকে অন্সবেদনশীল বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে কাউকে রূঢ়ভাবে কথা বলা ঠিক নয়। এই বিতর্ক চলার মধ্যে, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও তিলোত্তমার মা-বাবার মন্তব্যকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে পরামর্শ দেন।

তিলোত্তমার বাবা জানান, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করছেন না, বরং সহযোগিতা চান। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীদের এসব মন্তব্য শুধু পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে। সিপিএমকে শিরোনামে তুলে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও অভিযোগ করেছেন যে, তিলোত্তমার মা-বাবা কোনওভাবেই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নয়।

তিলোত্তমার পরিবার শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে হতাশ হয়েছেন, কারণ তাদের আবেদন প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা আবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন, এবং আপাতত সঞ্জয় রায়ের ফাঁসি চান না। তাঁদের দাবি, যারা মূল অপরাধী, তারা ধরা পড়ুক এবং তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।

আরও পড়ুনঃ বিহারের নির্বাচনকে সামনে রেখেই কেন্দ্রীয় বাজেট? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আক্রমণ বিজেপি’কে!

এখন, ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের শুনানি অপেক্ষায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি যতই জটিল হোক না কেন, রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা থামবে না।

RELATED Articles