বিহারের নির্বাচনকে সামনে রেখেই কেন্দ্রীয় বাজেট? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আক্রমণ বিজেপি’কে!

নতুন কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। শুক্রবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বাজেট পেশ করার পর, বিরোধী দলগুলির তরফ থেকে উঠেছে তীব্র সমালোচনা। বিশেষ করে, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছেন। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ এবং তৃণমূলের দ্বিতীয় শীর্ষনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাজেট ঘোষণার পরপরই বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন।

অভিষেকের অভিযোগ, বাংলা থেকে বিজেপির একাধিক সাংসদ দিল্লিতে গেলেও বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের উদাসীনতা বজায় রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১৮ জন বিজেপি সাংসদ জিতেছিলেন। তাতেও বাংলার জন্য কোনও বিশেষ বরাদ্দ আসেনি। এখন বিজেপির ১২ জন সাংসদ আছেন, তবুও বাংলাকে কিছুই দেওয়া হল না। অথচ বিহারে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় তাদের জন্য নানা প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাকে পরিকল্পিতভাবে বঞ্চনা করা হচ্ছে। বাংলার বিজেপি সাংসদরা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন না। অথচ তাঁদের উচিত ছিল রাজ্যের স্বার্থে আওয়াজ তোলা। বাংলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। প্রতিবারের মতো এবারও বাজেটে সেই একই ছবি ধরা পড়ল।”

অন্যদিকে, তৃণমূলের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন, “এই বাজেট সাধারণ মানুষের স্বার্থে তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষা, পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের দিকগুলি গুরুত্ব পেয়েছে। বাজেটে বাংলারও গুরুত্ব রয়েছে, তবে তৃণমূল কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”

তিনি আরও কটাক্ষ করেন, “আপনারা (তৃণমূল) বিজেপি সমর্থকদের ঘর দিচ্ছেন না, অথচ আশা করছেন বিজেপি সরকার আপনাদের সব কিছু দেবে? এই বাজেট গোটা দেশের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে, শুধুমাত্র কোনও একটি রাজ্যের জন্য নয়।”

এবারের বাজেটে বিহারের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে, যা রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনের সঙ্গে সংযোগ করা হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার মূলত নির্বাচনী রাজনীতিকে মাথায় রেখেই অর্থ বরাদ্দ করছে। বিহারের জন্য বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্প, নতুন রেল প্রকল্প, কৃষি সহায়তা এবং শিল্প উন্নয়নের জন্য বিশেষ ফান্ড বরাদ্দ করা হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, “বিজেপি সবসময় নির্বাচনের দিকে তাকিয়েই বাজেট তৈরি করে। সাধারণ মানুষের জন্য কোনও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকে না। গরিব মানুষ বা মধ্যবিত্তদের স্বার্থরক্ষা নয়, তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র নির্বাচনে জেতা।” অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিহারের মতো পশ্চিমবঙ্গও বাজেটে গুরুত্ব পেয়েছে এবং উন্নয়নের দিক থেকেই দেশের সমস্ত রাজ্যের জন্য যথাযথ পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বড় ঘোষণা! এক লক্ষ টাকার করমুক্তির সুবিধা

 তবে বিরোধীদের এই সমালোচনার মাঝে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, বাজেটে সত্যিই বাংলার প্রতি অবহেলা করা হয়েছে, আবার কেউ মনে করছেন, এটি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট—বাজেটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা আরও কিছুদিন চলবে।

RELATED Articles