আর জি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। আগামী ২৭ আগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজের তরফে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করলে নবান্ন অভিযান, এমনটাই বলা হয়েছিল। তবে এবার এই নবান্ন অভিযানের প্রধান উদ্যোক্তা তিন ছাত্রনেতার মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য।
তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের দাবী, এই ছাত্রনেতাদের মধ্যে শুভঙ্কর হালদার নামের যিনি রয়েছেন, তিনি নাকি এক সময় তৃণমূল ছাত্র সংগঠন করতেন। তবে ধর্ষণ ও অপহরণের মামলায় তার নাম জড়ানোয় সেই শুভঙ্করকে বহিষ্কার করা হয় সংগঠন থেকে। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টও করেছেন তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য।
এই পোস্টে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতির দাবী, “ছাত্র সমাজে’এর নামের পিছনে সবাই বিজেপির পোষ্য গুন্ডা। আপনারাই দেখে নিন কারা নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে। যারা নিজেরাই ধর্ষণ কেসের আসামি তারাই ধর্ষণের প্রতিবাদ করার জন্য নবান্নে অভিযানের ডাক দিয়েছে”।
এখানেই শেষ নয়, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের আরও দাবী, ”শুভঙ্কর হালদার ২০০৮ সাল থেকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে জড়িত ২০১১ সালের গঠিত কলেজ কমিটিতে একজন কার্যকারী সদস্য ছিল এবং দীর্ঘ দুই বছর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কলেজ কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য পরবর্তীতে ২০১৪ সালে একটি ধর্ষণ এবং কিডন্যাপিং এর মামলায় জড়িয়ে যাওয়ায় তাকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমস্ত পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ভালো ফল করায় মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করে তারও পরবর্তী সময় এবিভিপি-র নবদ্বীপ শাখার সভাপতি পদে নিযুক্ত হয়। এরপর কলেজের বিভিন্ন মারামারি অশান্তিতে আরও বিভিন্ন কেসে ফেঁসে যায়। কলেজে কলেজ ভাঙচুর, ভারপ্রাপ্ত আইসির গায়ে হাত তোলা, এরকম বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে থাকে তো এই অরাজনৈতিক নাম করে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বিজেপির আশ্রয়ে আশ্রিত একজন সমাজ বিরোধী ধর্ষণকারী ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নিজেকে মুখ হিসেবে তুলে ধরে নিজের ইমেজ ঠিক করতে। মোদ্দা কথা পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ বলে কোনো সংগঠন নেই, এসব এভিবিপির পিছনের দরজার নেমপ্লেট মাত্র। আসলে এরা একটি ঘৃণ্য ঘটনা ও দু:খজনক মৃত্যু কে সামনে রেখে রাজনৈতিক রুটি সেঁকতে এসেছে”।

যদিও তৃণমূলের এই দাবী উড়িয়ে দিয়েছেন শুভঙ্কর হালদার। তাঁর পাল্টা দাবী, “তৃণমূল ভয় পেয়েছে। তাই মিথ্যা কুৎসা শুরু করেছে”। চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, “যাঁরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে কুৎসা করছে, তাঁদের বলব, কোনও প্রমাণ থাকলে জনসমক্ষে নিয়ে আসুন”। শুভঙ্কর এও জানান তিনি একসময় সত্যিই এবিভিপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তাঁর দাবী, “এখন আমি অরাজনৈতিক”।
বলে রাখি, এর আগে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবী করেছিলেন যে নবান্ন অভিযান ব্যর্থ করতে নাকি ফেসবুকে ফেক প্রোফাইল বানিয়ে ফেক নিউজ ছড়িয়ে সকলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। সিভিক ভলান্টিয়ারদের দিয়ে নাকি বানানো হচ্ছে ফেক প্রোফাইল। আর এখন এবার ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনেও কী তাহলে নবান্ন অভিযান ব্যর্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছে? উঠছে প্রশ্ন।





