পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনে আধিক্য পেতে হবে, জয়ী ৪ বিরোধী প্রার্থীকে আগেয়াস্ত্র দেখিয়ে অপহরণ করার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

পঞ্চায়েত নির্বাচনে সবকটি জেলা পরিষদই তৃণমূলের দখলে গিয়েছে। আগামী ১৬ই আগস্টের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এর আগেই শাসকদলের বিরুদ্ধে উঠল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বোর্ড গঠনে আধিক্য পাওয়ার জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগণার মথুরাপুরের জয়ী ৪ বিরোধী প্রার্থীকে অপহরণ করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সিপিএমের তরফে পঞ্চসায়র থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

কী অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে?

জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েত নির্বাচনে  মথুরাপুর ১-এর কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ১৫টি আসনের মধ্যে ৪টি আসন পেয়েছে তৃণমূল। আর বিজেপি পেয়েছে ৬টি, সিপিএম ৩টি ও বাম সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ২টি আসনে। বিজেপির আসন সবচেয়ে বেশি। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ত্রিশঙ্কু বোর্ড হওয়ার কথা এখানে। অভিযোগ, বিরোধী প্রার্থীদের নিজেদের দলে টেনে বোর্ড দখলের পরিকল্পনা করেছে তৃণমূল। সেই কারণে বিরোধী চার প্রার্থীকে অপহরণ করা হয়েছে।

কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?

পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল, বৃহস্পতিবার বিজেপি ৩ জয়ী প্রার্থী ও সিপিএমের এক জয়ী প্রার্থী কলকাতা এসেছিলেন। পঞ্চসায়রে এক গেস্ট হাউজে ছিলেন তারা। জানা গিয়েছে, রাতে খাওয়াদাওয়ার পর ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ আচমকাই এক গাড়ি এসে তাদের তুলে নিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে এমনটাই দেখা গিয়েছে।

এই খবর পাওয়ার পরই তৎপর হয় দক্ষিণ ২৪ পরগণার জেলা সিপিএম নেতৃত্ব। তারা পঞ্চসায়র থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ির নম্বর দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ওই গাড়িতে তৃণমূলের লোকজন ছিল।

কী জানাচ্ছে সিপিএম?

এই ঘটনা প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “বিরোধী শিবিরের জয়ী প্রার্থীদের কোনও নিরাপত্তা নেই। চারজনকে কলকাতা থেকে অপহরণ করা হল। বোর্ড গড়ার জন্য এই কাজ করেছে তৃণমূল। আমরা হাই কোর্টে যাচ্ছি মামলা দায়ের করতে। অপহৃতদের দ্রুত উদ্ধারের পর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হবে”।

এই ঘটনায় তৃণমূলের কী বক্তব্য?

এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা তথা সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল যুব সভাপতি বাপি হালদার এই ঘটনায় বলেন, “তৃণমূল কখনও কাউকে অপহরণ করেনি। বিরোধীরা নিজেদের প্রার্থীদের ধরে রাখতে পারছে না, তাই এভাবে তৃণমূলকে কালিমালিপ্ত করছে”।

RELATED Articles