‘বহিরাগত’ প্রসঙ্গ নিয়ে একাধিকবার একাদিক তৃণমূল নেতৃত্ব প্রশ্ন তুলেছেন। এবার কার্যত সেই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতেই কোমর বাঁধল তৃণমূল। তৃণমূলের উদ্যোগে বিনা পয়সায় ২০০০ মানুষকে লিট্টি-চোখা-চাটনি খাওয়ানো হল। ভদ্রেশ্বরে করা হল লিট্টি পিকনিক।
কেন্দ্রীয় বিজেপি মন্ত্রী বা নেতারা যখনই রাজ্যে এসেছে, তখনই তৃণমূলের নানান নেতা তাদের বহিরাগত বলে আক্রমণ করেছেন। কিন্তু হুগলি শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বহু অবাঙালি মানুষের বাস। সেখানের জুটমিলে কাজ করতে এসে গত ৪০-৫০ ধরে তাঁরা এখানেই রয়ে গিয়েছেন। ভিন রাজ্য থেকে এলেও বাংলাকে আপন করে নিয়ে এখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন তাঁরা। কিন্তু বর্তমান রাজনীতিতে শাসকদল যেভাবে বহিরাগত প্রসঙ্গ নিয়ে বারবার আঙুল তুলেছে, এর জেরে সমাজের নিচুতলার কর্মীরাই পড়েছেন বিপদে।
সেই ভিন রাজ্যের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই কারণেই শুক্রবার ভদ্রেশ্বর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় লিট্টি পিকনিকের। এই পিকনিকে প্রায় ২০০০ ভিন রাজ্যের কর্মীকে বিনা পয়সায় খাওয়ানো হয় লিট্টি-চোখা-চাটনি। নির্বাচনের আগে নিজেদেরই বলা কথার মান বাঁচাতে এই কাজে উদ্যোগী হয়েছে তৃণমূল, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
এই নিয়ে বিজেপি রাজ্য মহিলা মোর্চা সম্পাদক বেবি তিওয়ারি তোপ দেগে বলেছেন, যে দলের নেতৃত্ব বারবার ভিন রাজ্য থেকে আগত মানুষদের ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়েছেন, তারাই আবার ‘বহিরাগত’দের সন্তুষ্ট করতে এইসব ছলকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। তাঁর মতে, এর পিছনে শাসকদলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
তবে নিজেদের এই কাজের জন্য সাফাইও দিয়েছেন ভদ্রেশ্বর পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ গোস্বামী। তাঁর দাবী, এই লিট্টি উৎসব প্রত্যেক বছরই সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য পালন করা হয়ে থাকে। কিন্তু করোনার কারণে এই বছর তাএক্তি দেরী করে হচ্ছে। এই পিছনে কোনও রাজনৈতিক কারণ নেই বলেই দাবী করেন তিনি।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বাইরে থেকে কেন্দ্রের যেসমস্ত নেতা-মন্ত্রী বাংলায় আসছেন, তাদেরই শুধু ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়েছেন, রাজ্যের অবাঙালিরা তাঁর মতে বহিরাগত নয়।





