পঞ্চায়েত নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে শাসক দলের হুমকি-ধমকি ততই যেন বাড়ছে। তৃণমূলকে ভোট না দিলে উন্নয়ন থেমে যাবে, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না, এমন নানান হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যাচ্ছে শাসক দলের নেতাদের। গতকাল, শনিবারই বীরভূমের তাতিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিদায়ী প্রধান মলয় রায়কে বলতে শোনা গিয়েছিল যে জোড়াফুলে ভোট না দিলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা মিলবে না। এবার সেই একই কথা শোনা গেল বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি পরমেশ্বর কোনারের গলাতেও।
গতকাল, শনিবার বিকেলে পূর্ব বর্ধমানের আটাগড়ে নির্বাচনী সভায় যোগ দেন তৃণমূল সভাপতি পরমেশ্বর কোনার। সেখান থেকেই তিনি বলেন, “চারদিকে ওরা সব জোট করেছে। বড়শুলের আম বাগানের নীচে বসে কথা হয়েছে ওদের। বিডিও অফিসে একসঙ্গে মিটিংয়ে যাচ্ছে। এখন এত মিল ওদের তা হয়তো ঘরের বউয়ের সঙ্গেও নেই। ভোটের রেজাল্ট বের হলে দেখব কত মিল থাকে”।
বেশ হুঁশিয়ারির সুরেই তিনি বলেন, “তোমাদের নিজেদের বউরাই তোমাদের পরবর্তীতে গালাগাল দেবে। কারণ তোমাদের টাকাটা আটকে যাবে। তোমার বউয়ের লক্ষ্মী ভাণ্ডারের টাকা আটকে যাবে, কৃষক বন্ধুর টাকা আটকে যাবে”।
তৃণমূল ব্লক সভাপতির এহেন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বেশ বিতর্ক শুরু হয়েছে। এরপরই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়ে শাসক শিবির। তৃণমূল মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, “তৃণমূল কাউকেই হুমকি দেয় না কখনও। যদি কেউ তা করেও থাকে তা অনুচিত”।
তবে তৃণমূল ব্লক সভাপতির এহেন মন্তব্য নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ে নি গেরুয়া শিবির। এই প্রসঙ্গে জেলা বিজেপির সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “ওরা বুঝতে পেরেছে ভোটে পরাজয় নিশ্চিত। তাই এসব ভুল বকছে। ওদের মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে”।





