‘আর জি কর কাণ্ড সাজানো ঘটনা…’, উপনির্বাচনে জিতেই বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূল প্রার্থীর

আজ, শনিবার প্রকাশিত হয়েছে রাজ্যের ৬ কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফল। ছয়টি আসনের মধ্যে সবকটিতেই জিতেছে তৃণমূল। উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই এবার আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনাকে ‘সাজানো ঘটনা’ বলে দাগলেন তালডাংরার বিজয়ী তৃণমূল প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহ। তাঁর এই মন্তব্যে ছড়াল বিতর্ক।

আর জি কর আবহে এই উপনির্বাচনই ছিল রাজ্যের প্রথম ভোট। আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে শাসক দলকে যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল, তাতে অনেকেরই ধারণা ছিল এবার হয়ত তৃণমূলের ক্ষমতা ক্ষুণ্ণ হবে। তবে তা যে হয়নি, আর জি কর কাণ্ডের প্রভাব যে গ্রাম বাংলায় সেভাবে পড়ে নি, তার প্রমাণ উপনির্বাচনের ফলাফল।

এবার উপনির্বাচনে জিতে তৃণমূল প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বললেন, “এটা ঐতিহাসিক জয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের যে অগাধ আস্থা, বিশ্বাস তার জয়। আরজি করকে কেন্দ্র করে যে ভাবে সারা সিপিএম ও বিজেপি পশ্চিম বাংলাকে ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সারা ভারতবর্ষের বুকে কালিমালিপ্ত করতে চেয়েছিল তার বিরুদ্ধে তার বিরুদ্ধে মানুষের ঐতিহাসিক মতদান। তারা বুঝিয়ে দিয়েছে আরজি কর সাজানো ঘটনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সঠিক ব্যক্তি”।

আর জি কর আবহের মধ্যে ভোট হলে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য টিকিয়ে রাখা যে তৃণমূলের কাছে বেশ বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, তা বলাই বাহুল্য। তবে সেই লড়াইতে ১০০ শতাংশ উতরেছে ঘাসফুল শিবির। তবে তা বলে আর জি করের ঘটনাকে সাজানো ঘটনা বলে তৃণমূল প্রার্থী যে মন্তব্য করলেন, তাতে যে তৃণমূলের বিড়ম্বনা বাড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আরও পড়ুনঃ ‘হ্যাঁ আমি ধর্ষণ করেছি…’, দীক্ষা দেওয়ার অছিলায় গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতন ‘ধর্মগুরু’র, দরজায় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলেন স্বামী 

তবে অন্যদিকে আবার আর জি কর কাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করার দিক থেকে অনেকটাই সাবধানী ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক। এদিন ভোট গণনার সকালে যখন তাঁকে আর জি কর কাণ্ডের প্রভাব ভোটবাক্সে পড়া নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, সেই সময় তিনি বলেন, “আমি একবারের জন্যও সেকথা বলব না। কারণ আরজি করের নির্যাতিতার জন্য আমরা মানসিকভাবে দুঃখিত। এই ঘটনা বাঞ্ছনীয় নয়। কিন্তু সেজন্য যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন, আমরা তাদের ধিক্কার জানাই। আমারে বোনের মৃত্যুকে নিয়ে যারা রাজনীতি করেছিলেন তাদের বিরুদ্ধে নৈহাটির মানুষ রায় দিয়েছে”।

RELATED Articles