পঞ্চায়েত ভোটে রক্তগঙ্গা বাংলায়, প্রাণ গেল ১৫ জনের, ‘নির্বিঘ্নে ও উৎসবের মেজাজেই ভোট হয়েছে’, বলছে তৃণমূল

পঞ্চায়েত ভোট শুরুর পর থেকেই রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে উঠে আসে হিংসার ছবি। প্রাণহানি, বোমাবাজি, ভোট লুট, দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব, কোনও কিছুই বাদ যায় নি। রাজ্যে ভোটের জেরে বলি ১৫। কিন্তু অশান্তির তত্ত্ব খারিজ করে দিয়ে শাসক দল তৃণমূলের দাবী রাজ্যে ভোট হয়েছে নির্বিঘ্নে ও উৎসবের মেজাজেই।

কী বলছে তৃণমূল?

পঞ্চায়েত ভোটের শেষে এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল। এই বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা দাবী করেন, “রাজ্যের ১৪টি জেলায় পুরোপুরি নির্বিঘ্নে এবং উৎসবের মেজাজে নির্বাচন হয়েছে। বাকি কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি বুথে অশান্তির খবর এসেছে। আমরা একটা মৃত্যুও চাই না। কোনও মৃত্যু কাম্য নয়। কিন্তু যা হিংসা হয়েছে তার বেশিরভাগেই আমাদের কর্মী আক্রান্ত”।

একই ধরণের সুর শোনা গেল তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের গলাতেও। তিনি বলেন, “রাজ্যের ৬১ হাজার বুথ। সব মিলিয়ে ৭-৮টি বুথে মেজর ঝামেলা হয়েছে। আর বাকি কিছু বুথে পাড়ার ঝামেলা। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ষাটের বেশি হবে না। বাকি ৬১ হাজার বুথে নির্বিঘ্ন, উৎসবের আমেজে ভোট হয়েছে”।

কুণাল আরও বলেন, “রাজ্যের বিরোধীরা আসলে হিংসার কারবার করতে চাইছে। বিজেপির দুই ভাই, সিপিএম এবং কংগ্রেস,তাঁদের সঙ্গে আইএসএফ ল্যাজুড় জুড়েছে। এরা কিছু কিছু জায়গায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হিংসা ছড়াচ্ছে। হিংসার মার্কেটিং করছে বিরোধীরা। যাতে বাংলাকে বদনাম করা যায়। বাংলার নামে কুৎসা করা যায়”।

ব্রাত্য বসুর কী বক্তব্য?

এদিনের এই বৈঠক থেকে আবার বিরোধীদের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তাঁর কথায়, “দিনহাটায় ব্যালট বাক্সে জল ঢালল কারা? বসিরহাটে ছাপ্পা মারল কারা? নদিয়ায় আমাদের কর্মীকে গুলি করল কারা? বিরোধীরাই সন্ত্রাস করেছে। আবার তাঁরাই কেন্দ্রীয় বাহিনী এনেছে। ওরা চোরকে বলছে চুরি করো। আবার গৃহস্থকে বলছে ধরো”।

মোটের উপর তৃণমূলের বক্তব্য, নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম সম্মিলিতভাবে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। গোটা দেশের কাছে বাংলাকে বদনাম করতেই এমনটা করা হয়েছে বলে দাবী শাসক দলের।

RELATED Articles