বেআইনি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় মা ও মেয়েক কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ। এমনকি পা ধরে ক্ষমা চাওয়ানোর অভিযোগ উঠল বিধাননগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আশুতোষ নন্দীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই গোটা এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কী অভিযোগ উঠেছে?
ঘটনাটি ঘটেছে কেষ্টপুরের প্রফুল্লকানন এলাকায় ৩রা মার্চ তারিখে। সেদিন ওই এলাকার একটি কালী মন্দিরে মা ও মেয়েকে ডেকে পাঠানো হয়। সেই কালী মন্দিরের পাশেই কার্যালয়ে তাদের দুজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই কাউন্সিলরের পা ধরে ক্ষমতা চাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকি, তাদের কান ধরে ওঠবস করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে।
জানা গিয়েছে, গত বছর মে মাস থেকে ওই নিগৃহীতা মা ও মেয়ের বাড়ির পাশেই একটি অবৈধ নির্মাণ শুরু হয়। এই নিয়েই প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তারা। নানান প্রশাসনিক দফতরে ওই অবৈধ নির্মাণ নিয়ে নালিশ করেছিলেন তারা। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।
কী ঘটেছিল গোটা ঘটনাটি?
নিগৃহীতা তরুণী জানান, তারা বারবার এমন অভিযোগ জানানোয় গত ৩রা মার্চ তাদের কালী মন্দিরের সামনে ডেকে পাঠানো হয়। তরুণী জানায়, তাঁর মাকে নিয়ে তিনি সেখানে গেলে প্রায় দেড়শ জন মহিলা ও বেশ কয়েকজন ঘিরে ধরে তাদের। মন্দিরের পাশে একটি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের।
নিগৃহীতা তরুণীর অভিযোগ, তাঁকে কার্যালয়ের একটি ঘরে বন্ধ করে মারধর করা হয়। কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ মহিলারা তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ। এরপর কাউন্সিলরের সামনে কানও ধরতে হয় তাঁকে। এমনকি অভিযোগ, কেন তিনি প্রতিবাদ করেছেন, তার জন্য কাউন্সিলরের পা ধরতে বাধ্য করা হয় তাঁকে।
ওই তরুণী দাবী করেন, কাউন্সিলর জোর গলাতেই বলতে থাকেন, এলাকায় বেআইনি কাজ হবে এবং কাউন্সিলরের মদতেই তা সম্পন্ন হবে। ওই ঘটনার পর থেকে তাদের অনবরত হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি। তিনি জানান, “কাউন্সিলর প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে বলেছেন, আমাকে টাকা দিলে বেআইনি নির্মাণ আইনি হয়ে যাবে, আইনি নির্মাণ বেআইনি। একদম বুক বাজিয়ে বলেছেন। ওঁর মেয়ে হাইকোর্টের উকিল। সেটাই ওঁর জোর”।
পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি
এমন ঘটনার পর বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন নিগৃহীতা মা ও মেয়ে। তারা বাগুইআটি থানায় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। কিন্তু তাদের দাবী, পুলিশ সবটা জানার পরও নিষ্ক্রিয় থেকেছে। কোনও পদক্ষেপ করেনি পুলিশ।
এই ঘটনা জানাজানি হতেই আজ, বুধবার এই বিষয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। বলেন, রাখি পূর্ণিমার দিন এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান না তিনি।





