দলের নানান তারকা-নেত্রী মিমি (Mimi Chakraborty), নুসরত (Nusrat Jahan), জুন মালিয়াদের (June Malia) বেলাগাম আক্রমণ করেছিলেন তিনি। এই কারণে এবার দলের তরফে শাস্তি দেওয়া হল তাঁকে। নিরাপত্তা কমল রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতোর (Srikanta Mahato)। এবার থেকে ২৪ ঘণ্টা মাত্র একজন নিরাপত্তারক্ষী থাকবেন তাঁর সঙ্গে। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবী, এই নিরাপত্তা কম করার সঙ্গে শ্রীকান্তর করা মন্তব্যের কোনও যোগ নেই।
কিছুদিন আগেই শ্রীকান্ত মাহাতোর একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “জুন মালিয়া, সায়নী, সায়ন্তিকা, মিমি, নুসরতরা লুটেপুটে খাচ্ছে। এরাই যদি দলের সম্পদ হয় তবে আর এই দল করা যাবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সিদের বোঝাতে চেয়েছিলাম, ওরা কিছুতেই বুঝতে চাননি”।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের কি বাঁচার অধিকার থাকবে না? আমাদের নাগরিকত্ব কি থাকবে না? এটা আমরা বলতে চাই। আজ থেকে পরিকল্পনা করে জয়যাত্রা শুরু করব। আমরা পুলিশ এবং বিডিওর কাছে স্মারকলিপি জমা দেব। আমাদের নাগরিকত্ব, অধিকার বন্ধ করার ব্যবস্থা যদি করে, তা হলে আমরা কী করব? কী করা উচিত? সে জন্য পশ্চিমাঞ্চল নাগরিক সমাজ, পশ্চিমাঞ্চল কৃষক সমাজ, পশ্চিমাঞ্চল বুদ্ধিজীবী সমাজ আমরা তৈরি করব। আমরা মমতাদি পর্যন্ত যেতে চাই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ, সুব্রত বক্সীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তাঁরা বুঝতে চাননি। খারাপ লোককেই তাঁরা ভাল লোক বলছেন”।
এই ভিডিও ভাইরাল হতেই রাজ্যজুড়ে বেশ শোরগোল শুরু হয়। খোদ শাসক দলের বিধায়কের মুখে এহেন মন্তব্যের জেরে বেশ অস্বস্তির মধ্যে পড়ে তৃণমূল। তাঁকে দলের তরফে শোকজ করা হয়। সেই শোকজের উত্তর দিয়ে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন শ্রীকান্ত। কিন্তু এরপরও শেষরক্ষা ঠিক হল না। নিরাপত্তা কমল তৃণমূল মন্ত্রীর।
রাজ্যের মন্ত্রী এমন মন্তব্যকে হাতিয়ার করে মাঠে নামে বিজেপি। তাদের মতে, এটি তৃণমূলের অন্দরের ব্যাপার হলেও তিনি দলের বিশেষ কিছু জনপ্রতিনিধিদের আক্রমণ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ বিধায়ক তো কেউ আবার সাংসদ। তাই বিজেপির মতে, এটা গুরুতর অপরাধ আর এর জন্য শুধুমাত্র নিরাপত্তা কমানোই নয়, মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। যদিও বিজেপির এই দাবী নিয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।





